Dhaka, Wednesday | 14 October 2026
         
English Edition
   
Epaper | Wednesday | 14 October 2026 | English
শিরোনাম:

আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জেলাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

পাহাড় রাণী খাগড়াছড়িতে সম্প্রীতির দুর্গোৎসব

প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম  (ভিজিটর : ৫)

“শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও,জননী এসেছে দ্বারে, আদ্যাশক্তি জগৎজননী মহামায়ার আগমন বার্তা মানব হৃদয়ে জাগিয়ে তুলেছে আনন্দ শিহরণ।” হিমেল পরশ, নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা, প্রান্তরে কাঁশফুলের সমারোহ। শিশির ভেজা ভোরে শিউলি ফুল, বাতাসে আগমনী গানে গানে বলে দেয় শারদ উৎসব সমাগত। “জগজ্জননীর আগমনে আসুক বিশ্বের কল্যাণ সুখ ও সমৃদ্ধি।”

পাহাড়ের কোল ঘেঁষে লেগেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের রঙ শারদীয় দুর্গোৎসবের ঢাকের বাদ্য আর কাশফুলের শুভ্রতায় মেতে উঠেছে সারাদেশ। তবে সমতলের চেয়ে খাগড়াছড়ির উৎসবের রঙটা একটু আলাদা, একটু বেশিই বৈচিত্র্যময়। পাহাড়, ঝরনা আর সবুজ উপত্যকার মাঝে প্রতি বছরের মতো এবারও ফিরে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। তবে খাগড়াছড়ির দুর্গোৎসবের সৌন্দর্য কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পাহাড়ি এই জেলাটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যা ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতি। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও মুসলিম সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। ফলে খাগড়াছড়িতে দুর্গাপূজা কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের উৎসব নয়, এটি রূপ নেয় পাহাড়ি-বাঙালি ও পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন এক মহা মিলনোৎসবে। সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির শেষ সময়ের তুলির টানে যখন দেবী দুর্গা মর্ত্যে আসার প্রস্তুত নিচ্ছেন, ঠিক তখনই মণ্ডপের আশপাশে জমে ওঠে এক মিলনমেলা। পাহাড়ি ও বাঙালির সামাজিক বন্ধন: মণ্ডপে দেবীর রূপ দেখতে এবং অঞ্জলি দিতে সনাতনীদের পাশাপাশি ছুটে আসেন স্থানীয় চাকমা, মারমা কিংবা ত্রিপুরা তরুণ-তরুণী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা। মুসলিম প্রতিবেশীরাও শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হন মণ্ডপ প্রাঙ্গণে। সহমর্মিতা ও উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি: পাহাড়ি সংস্কৃতি ও বাঙালি সংস্কৃতির এই অপূর্ব মেলবন্ধন প্রতি বছর প্রমাণ করে যে, উৎসবের কোনো ভৌগোলিক বা জাতিগত সীমানা থাকে না। বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের বাড়িতে মিষ্টিমুখ করানো আর শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পাহাড়।

‘স্থানীয় এক পাহাড়ি দর্শনার্থী বলেন, ‘পাহাড়ের মানুষ উৎসব ভালোবাসে। পূজা এলে আমরা যেমন আমাদের সনাতনী বন্ধুদের মণ্ডপে যাই, তেমনি বিজু বা ওয়াগাই পোই এলেও সবাই একসাথে আনন্দ করি। খাগড়াছড়িতে পূজার আমেজটাই আলাদা। 

খাগড়াছড়ির বিভিন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা ব্যস্ত প্রতিমার চোখ-মুখ, পোশাক ও অলংকরনের কাজে। কেউ তুলিতে রং করছেন, কেউ ব্যস্ত সূক্ষ্ম কারুকাজে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় দিন-রাত কাজ করছেন প্রতিমাশিল্পীরা।

খাগড়াছড়ি জেলায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা শহরের প্রাচীণ কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির থেকে শুরু করে দূরবর্তী পাহাড়ি জনপদের বিভিন্ন পাড়ায় গড়ে ওঠা ৬৮টি মণ্ডপের প্রতিটিতেই এখন উৎসবের আমেজ। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আরতি প্রতিযোগিতা ও প্রসাদ বিতরণ।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়, জেলা সদর ও উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ঘুম দ্বায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া প্রায় প্রতিটি মন্ডপেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন রয়েছে। থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম, ও স্বেচ্ছাসেবক টিমের টহল।

শ্রীশ্রী শারদীয়া মহা পূজার সময় নির্ঘন্ট

“দেবীর ঘোটকে আগমণ। ফলম্-ছত্রভঙ্গ” 

ষষ্ঠী, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ: শুক্রবার। ষষ্ঠী রাত্রি ঘ ৪/১৫/৪২ পর্যন্ত। সায়ংকালে বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ষষ্ঠী বিহিত পূজা প্রশস্তা।

সপ্তমী, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ: শনিবার। সপ্তমী অহোরাত্র। পূর্বাহ্ন ৯/৫৭/০৩ মধ্যে শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ স্থাপন সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্তা।

সপ্তমী, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ: রবিবার। সপ্তমী বিহিত অধিক পুজাঃ সপ্তমী প্রাতঃ ঘ ৬/২২/১৩ পর্যন্ত। শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর সপ্তমী বিহিত অধিক পূজা প্রশস্তা।

মহাঅষ্টমী, ১লা কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ: সোমবার। অষ্টমী প্রাতঃ ঘ ৮/১৯/২৯ পর্যন্ত। শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী পুজা সন্ধিপূজানুরোধে ঘ ৭/৫৫/২৯ মধ্যে মহাষ্টমী বিহিত পূজা প্রশস্তা। সন্ধিপুজারম্ভঃ-ঘ ৭/৫৫/২৯ গতে। সন্ধিপুজা সমাপন: ঘ ৮/৪৩/২৯ মধ্যে।

মহানবমী, ২২কার্ত্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ২০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ: মঙ্গলবার। নবমী দিবা ঘ ৯/৫৯/৫১ পর্যন্ত। পূর্বাহ্ন মধ্যে শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গাদেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা প্রশস্তা।

বিজয়া দশমী, ৩ কার্ত্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ২১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ: বুধবার। দশয়ী ঘ ১১/৪৬/১৮ পর্যন্ত। শ্রীশ্রী শারদীয়া দুর্গীদেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপনান্তে বিসর্জন প্রশস্তা। বিকাল ৪:০০ ঘটিকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নিরঞ্জন।
“দেবীর নৌকায় গমন। ফলম্-শস্যবৃদ্ধি তথা জলবৃদ্ধি”

এই পুণ্যউৎসবে ভক্তি, আনন্দ ও মিলনের মূহূর্তগুলোকে ভাগ করে নিতে আপনার সবান্ধব উপস্থিতি ও সানুগ্রহ সহযোগিতা একান্ত আন্তরিকতায় কাম্য। আপনার উপস্থিতি এ আয়োজনে এনে দেবে পূর্ণতা। “জগজ্জননীর আগমনে আসুক বিশ্বের কল্যাণ সুখ ও সমৃদ্ধি।”

এফপি/অ

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝