মায়ের সঙ্গে থাকতে চায়নি, এমনকি আত্মহত্যা করবে, কয়েকদিন আগেও এমন কথা বলেছিলো পাবনার সাঁথিয়ার সোনাতলা গ্রামের সাগর হোসেন। সেই সাগরই এখন মাকে কাছে পেয়ে খুশি।ছেলের সঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত মা মুন্নি খাতুনও।
রোববার (১১ অক্টোবার) পাবনার বিজ্ঞ আদালতের হস্তক্ষেপে মা-ছেলের বিরোধের নিষ্পত্তি হয়। আদালতে মায়ের কাছে ক্ষমা চায় সাগর। এরপর থেকে মাকে নিজের সঙ্গেই রেখেছে সে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মাকে সঙ্গে নিয়ে সাঁথিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হয় সাগর। সঙ্গে ছিলো তার মামা ও খালু। ইউএনও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে মাকে সারাজীবন নিজের কাছে রাখার অঙ্গীকার করে সে। এ সময় মা-ছেলে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করায়।
সাগর হোসেন জানায়, রাগের মাথায় মাকে সঙ্গে না রাখার কথা বলেছিল সে। এরপর থেকে অনুশোচনায় তিনদিন ঘুমাতে পারেনি। এখন ভুল বুঝতে পেরেছে। জীবনের বাকি সময় মাকে নিজের কাছেই রাখবে।
মা মুন্নি খাতুন জানায়, ছেলের প্রতি তার কোনো রাগ-অভিমান নেই। ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে যত্ন করছে।
ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, মা-ছেলের বিরোধ মেটাতে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়। মা-ছেলেকে একসঙ্গে দেখে তিনি আনন্দিত।
দীর্ঘদিনের অভিমান আর বিরোধ পেছনে ফেলে এখন একই ছাদের নিচে মা-ছেলে। মুন্নি খাতুনের চাওয়া ছিল সামান্য, ছেলের কাছে একটু আশ্রয়। অবশেষে সেই চাওয়াই পূরণ হলো।
এফপি/মিব