বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, বিনোদন ও স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে পাবনায় শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে রোটারি ক্লাব অব পাবনা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত নষ্ট অটোরিকশাটি নতুন ব্যাটারি সংযোজন ও প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) পাবনা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল প্রাঙ্গণে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডি ৬৪-এর প্রকল্প ‘প্রাথমিক শিক্ষা ও সাক্ষরতা’র আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটা. আলহাজ মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটা. পিপি খন্দকার মোবিদুর রহমান, পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রোটা. এ এইচ এম রেজাউন জুয়েল এবং সাংবাদিক ও সমাজকর্মী জুবায়ের খান প্রিন্স।
রোটারি ক্লাব অব পাবনার প্রেসিডেন্ট রোটা. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটা. আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের আইপিপি রোটা. গোলাম হাসনায়েন বিপ্লব, ক্লাব সেক্রেটারি রোটা. শফিকুর রহমান শান্ত, রোটা. আসাদুজ্জামান খোকন, জিয়াউর রহমান বিশ্বাস জিউ, রোটা. রফিকুল ইসলাম, রোটা. ড. আহমেদ মেহেদী, রোটা. আলমগীর হোসেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশিদা আক্তার রিপা।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নেন এবং শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী, খেলনা ও খাবার বিতরণ করেন। এ সময় শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অটোরিকশাটি সচল করা। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা অটোরিকশাটিতে নতুন ব্যাটারি সংযোজনসহ প্রয়োজনীয় মেরামত করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখবে উদ্যোগটি।
আয়োজকরা জানান, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা ও আনন্দের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের দৈনন্দিন চলাচলে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি এবং তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করেন তারা।
রোটারি ক্লাব অব পাবনার এ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক আনন্দের পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এফপি/অ