রাজশাহীর তানোরে সুজন রহমান (৩৭) নামের এক যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আবুল হোসেন ধলু (৪৫) নামের আরও একজন পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ব্যবসায়িক কাজে তানোরে যান তিনি। পরে রাজু আহম্মেদ তাঁকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি দেবীপুরে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। রাজুকে মোটরসাইকেলে করে সেখানে নিয়ে গেলে কয়েকজন তাঁকে জোর করে একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করেন সুজন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জহুরা বেগম (৩৫), বাচ্চু মন্ডল (৩৮), রাজু আহম্মেদ (২৮) ও তাঁর স্ত্রী সুর্বনা বিবি (২০)। পলাতক আবুল হোসেন ধলুর বাড়ি তানোর এলাকায় বলে জানা গেছে।
সুজন রহমান রাজশাহীর পবা উপজেলা গেটের পশ্চিম পাশে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, সেখানে তাঁর কাছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাচ্চু মন্ডল বাঁশ দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে সুর্বনা বিবি তাঁর গলায় ধারালো ছুরি ধরে টাকা দাবি করেন। পরে তাঁকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়।
পরদিন সকালে আবারও মারধর করে টাকা দাবি করা হলে সুজন জানান, তাঁর মুঠোফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা রয়েছে। এরপর অভিযুক্তদের দেওয়া নম্বরে তিন দফায় মোট ৮ হাজার ২০০ টাকা পাঠাতে বাধ্য হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আরও টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তাঁকে কৃষ্ণপুর বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিচিত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাদশার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান সুজন। তিনি বাদশাকে জানান, তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদশা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পেয়ে তানোর থানার পুলিশ দেবীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুজনকে উদ্ধার করে এবং চারজনকে আটক করে। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সুজনের অভিযোগ, এ সময় তাঁর প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে আবুল হোসেন ধলু পালিয়ে যান। উদ্ধার হওয়ার পর সুজনকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফপি/ফ