চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক সাহসী কবি। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, ছিলেন মানুষের মুক্তির কবি। বর্তমান সময়ে সমাজে অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে নজরুলের মানবতাবাদী দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের হাজিগাঁও বরুমচড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম মানুষের মধ্যে স্বাধীনচেতা মানসিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর লেখনীতে নিপীড়িত মানুষের অধিকার, সাম্য, মানবতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে জানতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যদি নজরুলের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নেয়, তাহলে তারা অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস অর্জন করবে। একই সঙ্গে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে পারবে।
বিএনপির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই একজন মানুষ সফল হয় না। দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ, সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধও অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নিজেদের সৎ, দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে গেলে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
খেলাধুলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায় এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও হাজিগাঁও বরুমচড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত জামাল দুলাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জহুরুল আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী, বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমান আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান চৌধুরী, ইব্রাহিম খলীল, আসহাব উদ্দিন চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ মহসিন চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা জয়নালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এফপি/ফ