Dhaka, Friday | 21 August 2026
         
English Edition
   
Epaper | Friday | 21 August 2026 | English
শিরোনাম:

ঝিনাইদহে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনের নিচে মৃত্যুঝুঁকিতে ২০০ পরিবার

প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০১ পিএম  (ভিজিটর : ১৬)

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার আড়পাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিচে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে দুই শতাধিক পরিবার। কোথাও কোথাও বসতঘরের ছাদ থেকে বিদ্যুতের তারের দূরত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট। এতে শিশু, বৃদ্ধসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর আগে এলাকাটি ফাঁকা থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ লাইনটি স্থাপন করা হয়। সময়ের সঙ্গে এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠলেও ঝুঁকিপূর্ণ লাইনটি সরানো কিংবা নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো তারও বিভিন্ন স্থানে ঝুলে পড়েছে।

সরেজমিনে আড়পাড়া, নদীপাড়া, মধুপট্টি, কোটচাঁদপুর রোড, মাঠপাড়া, দরগাপাড়া, চাপালী ও শ্রীরামপুর এলাকায় দেখা যায়, অসংখ্য বসতবাড়ির ওপর দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন চলে গেছে। অনেক বাড়ির ছাদে ওঠার সিঁড়ি বন্ধ করে দিয়েছেন বাসিন্দারা। ছাদে কাপড় শুকানো, নির্মাণকাজ কিংবা মেরামতের কাজ করতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।

আড়পাড়া দরগাপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমাদের এলাকার বহু বাড়ির ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের তার ঝুলে আছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে।’

নদীপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা মো. শওকত আলী বলেন, ‘প্রায় অর্ধশত বছর আগে যখন লাইনটি স্থাপন করা হয়, তখন এখানে তেমন বসতবাড়ি ছিল না। পরে ধীরে ধীরে ঘনবসতি গড়ে উঠেছে।’

তাঁর দাবি, গত তিন দশকে এ এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে অন্তত চার-পাঁচজনের প্রাণ গেছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুতের তারগুলো এখন অনেক ঘরের ছাদ ও চালের সঙ্গে প্রায় লেগে থাকার মতো অবস্থায়। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই তিনি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, প্রায়ই ছাদে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা শোনা যায়। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালে কালুখালী গ্রামের এক রংমিস্ত্রি নদীপাড়ায় একটি বাড়িতে রং করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত অনেককে চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নদীপাড়ার বাসিন্দা আক্তার হোসেন দোলা বলেন, ‘আমাদের বাড়ির ওপর দিয়েই ৩৩ হাজার ভোল্টের তার গেছে। বাড়ি নির্মাণের সময় বুঝতে পারিনি এটি কতটা ভয়ংকর। এখন ছাদে উঠতেও ভয় লাগে।’

তিনি জানান, কয়েক বছর আগে ডিসলাইনের কাজ করার সময় উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের সঙ্গে সামান্য সংযোগে বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশের অনেক বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটলেও দীর্ঘদিনেও ঝুঁকি নিরসনে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উচ্চ ভোল্টেজের লাইনটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ায় অনেকে নতুন করে বাড়ি নির্মাণও করতে পারছেন না। কেউ জমি থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না, আবার কেউ জমি বিক্রির চেষ্টা করছেন।

বাসিন্দাদের মতে, লাইনটি মেরামত করে আরও উঁচু করা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অথবা সম্ভব হলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে সড়কের পাশ দিয়ে নেওয়া হলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারেননি। তিনি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সবুক্ত গীনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুক্ত গীন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। কালীগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিন।’

কালীগঞ্জে আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (অফিস হেড) জয়দীপ সরকার বলেন, ‘লাইনটি অনেক আগে স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। তবে এটি সরানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল।’

তিনি জানান, এ বিষয়ে আবেদন করা হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এরপর ইস্টিমেট চাওয়া হলে ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী লাইনটি সরানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

এলাকাবাসীর দাবি, কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা দ্রুত লাইনটি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া অথবা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, কালীগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এফপি/ফ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝