অভাবের সংসারে থেকেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে নীলফামারীর ডোমারের চাম্পা রানী। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল পেলেও আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে পরিবারটিকে।
চাম্পা রানী ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের বাগডোকরা দোলাপাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান সে। তার বাবা লখিন্দ্র রায় পেশায় রাজমিস্ত্রি। সংসারের খরচ চালাতে তিনি ঢাকায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন। মা সৈবা বালা গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে চাম্পা বড়।
পরিবারের নিজস্ব কোনো বসতভিটা বা আবাদি জমি নেই। বাবার সীমিত আয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চাম্পার ছোট বোন টুম্পা রানী অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ভাই বিপ্লব রায়ও পড়াশোনা করছে।
অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি চাম্পার আগ্রহ ছিল প্রবল। নিয়মিত অধ্যয়ন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফল প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত হলেও এখন তাদের সামনে নতুন দুশ্চিন্তা—চাম্পার কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড় করা।
চাম্পা রানী জানায়, তার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবা করতে চায় সে। তবে পরিবারের আর্থিক সংকট তার স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাম্পার বাবা লখিন্দ্র রায় বলেন, মেয়ের ভালো ফলাফলে তারা আনন্দিত। কিন্তু সীমিত আয়ে তার উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। অর্থের অভাবে মেয়ের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, এটাই এখন তার প্রত্যাশা।
ডোমার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা বুলবুল বলেন, চাম্পা মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী। তাকে সহযোগিতা করা হলে ভবিষ্যতে সে ভালো কিছু করতে পারবে। অর্থের অভাবে যাতে তার উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ না হয়, সে জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসন গুরুত্ব দিচ্ছে। চাম্পার পরিবার যোগাযোগ করলে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও চাম্পার চোখে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন পূরণে তার প্রয়োজন শুধু আর্থিক সহযোগিতা ও সুযোগ। সমাজের সহৃদয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো পাশে দাঁড়ালে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফপি/ফ