রিকশা শ্রমিকদের মানবিক জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সমাবেশ করেছে বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতি।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা ব্যাটারিচালিত রিকশার ডাম্পিং, পুলিশি হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে আটক করা রিকশাগুলো আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জননেতা সাইফুল হক বলেন, রিকশা শ্রমিকসহ অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষের বাঁচার দাবি পূরণ করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা শ্রমিকবান্ধব সরকার। শ্রমিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে তাদের কাছে গণতন্ত্রের কোনো অর্থ থাকবে না।
তিনি বলেন, রিকশা শ্রমিকদের মানবাধিকার নিয়ে কেউ কথা বলে না। চলমান বিদ্যুৎ সংকটের দায়ও অযৌক্তিকভাবে রিকশা শ্রমিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। এ সময় তিনি সরকারসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।
সাইফুল হক আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা নির্বিচারে ডাম্পিং এবং শ্রমিকদের ওপর হয়রানি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় রিকশা শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপতি জামাল সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, বাংলাদেশ বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক আহসান বিল্লাল, কেন্দ্রীয় নেতা তুহিন খান, মোহাম্মদ শান্তসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
সমাবেশ থেকে রিকশা শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন, পুলিশি হয়রানি ও রিকশা ডাম্পিং বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য আলাদা রিকশা লেন তৈরি, অটোরিকশা শ্রমিক পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু, স্বল্প খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, জীবিকার তাগিদে বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে পরিবার পরিচালনা করছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে ডাম্পিং, হয়রানি ও নির্যাতনের কারণে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকদের অধিকার ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এফপি/র