Dhaka, Thursday | 6 August 2026
         
English Edition
   
Epaper | Thursday | 6 August 2026 | English
শিরোনাম:

বন্যার ক্ষত দেখতে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম  (ভিজিটর : ৩৪)

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় সৃষ্ট ক্ষত দেখতে ছুটে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী সফরে আসছেন।

বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, পুনর্বাসন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে যাবেন উত্তরের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে। সেখানে হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে (হাটহাজারী মাদরাসা) যাবেন। সেখানে হেফাজতের সাবেক আমির মরহুম শাহ আহমদ শফির কবর জিয়ারত শেষে জেলা পরিষদ বাংলোতে দুপুরের খাবার গ্রহণ করবেন।

এরপর হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দলের চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন রেডিসন ব্লুতে। তারপর চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুরের রহমান শামীম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফর করবেন।

সফরে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী এলাকা পরিদর্শন করবেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের সামগ্রী বিতরণ করবেন। এ ছাড়া ফটিকছড়ি হাটহাজারী সফর করবেন। লাঞ্চের পর চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর যেন রক্তের ধারাবাহিকতা! ১৯৯০-এ স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে মার্চে বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরের মাসেই ২৯ এপ্রিল শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের পুরো উপকূলীয় অঞ্চল। বিধ্বস্ত চট্টগ্রামে ১৯৯১ সালের ৮ মে বেগম খালেদা জিয়া ছুটে আসেন চট্টগ্রামবাসীর পাশে। চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ ছুটে যান বেগম খালেদা জিয়া। কারারুদ্ধ এবং অসুস্থ হওয়ার আগে বেগম জিয়া বৃহত্তর চট্টগ্রামের আরেকটি আন্তর্জাতিক সংকট রোহিঙ্গা প্রবেশের পর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম আসেন। সেটিই ছিল তার শেষ চট্টগ্রাম সফর।

১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি সায়েম পদত্যাগ করলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন জিয়াউর রহমান। এরপরের বছর ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রাম আসেন জিয়াউর রহমান। সেই সফরে তাঁর হাত ধরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সাংবাদিকদের জন্য তিনি একটি মিনি ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আর সব কিছুর ঊর্ধ্বে ছিল ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতার ঘোষণা। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মেজর জিয়া থেকে জেনারেল জিয়া, জেনারেল জিয়া থেকে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান জিয়া। ১৯৮১ সালে দলীয় কর্মসূচিতে এসে তিনি কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য দ্বারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাহাদাতবরণ করেন। তাকে প্রথমে সমাহিত করা হয় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। তারপর তার মরদেহ স্থানান্তর করা হয় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে। যেখানে গত ৩১ ডিসেম্বর তার পাশে সমাহিত করা হয়েছে তার স্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম পরিণত হয় বাণিজ্যিক রাজধানীতে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর চট্টগ্রামের দৃশ্যমান উন্নয়ন যতটুকু হয়েছে তার সিংহভাগই বেগম জিয়ার হাতে। তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, ইপিজেড, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, বিজিএমইএ ভবন, নতুন রেলস্টেশনসহ চট্টগ্রামের কার্যকর উন্নয়নের সব কৃতিত্বই বিএনপির।

জিয়া পরিবার তথা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের জন্য ছিলেন সব সময় উদার। চট্টগ্রামের জন্য প্রকল্প উত্থাপিত হলেই তারা সেটি বিশেষ অগ্রাধিকার দিতেন। ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরে তাদের সন্তান হাল ধরলেন দেশের। অন্য যে কোনো বারের চেয়ে তারেক রহমানের এবারের সফর ভিন্ন। তিনি এখন রাষ্ট্রপ্রধান, দলের প্রধান। এবারও চট্টগ্রামবাসী প্রত্যাশায় আছেন—চট্টগ্রামের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ কোনো ঘোষণার অপেক্ষা।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় এবারের ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে দুর্ভোগের চিহ্ন। সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় কৃষি খাতের পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ, নলকূপ, ল্যাট্রিন, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন খাতে এক হাজার ৪৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদন মতে, বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের ছোট ছনুয়া-ছনুয়া বাজার সড়ক এখন কাদা, গর্ত আর ভাঙনে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছনুয়ার সেই সড়ক পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।


এফপি/র
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝