পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি মামলায় খুলনার একটি আদালত ৬ জন আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছাড়া বাকীরা পলাতক রয়েছে। এ মামলার অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) খূলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতৃর্থ আদালতের বিচারক মো: খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: শাহাআলম।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো: লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামি শামীমকে ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।
রায় প্রদানকালে মো: লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছে।
আদালতের সূত্র জানায়, গত ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো: রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময়ে তার সাথে কর্মচারী ছিলেন।
তারা দুজন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌছালে দুইটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোষাক পরিহিত এবং বাকী তিনজন সিভিল পোষাক পরা অবস্থায় তার গতিরোধ করে।
এরপর তারা তাকে জানায় যে, তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সাথে থানায় যেতে বলে। তারা রবিউলকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা হয়।
তখন রবিউল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে মৃতৃ্যুও ভয় দেখায় এবং তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে যায়। ঘটনার পরের দিন তিনি পাইকগাছা থানায় থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, যার নং ৬।
একই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই মো: শাহজুল ইসলাম ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এফপি/ফ