ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ (এনডিসি) বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের ওলামায়ে কেরাম, ইমাম-খতিব ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই ভূমিকা ও অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বীনি শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম সচিব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব এবং দ্বীনি শিক্ষার্থীরাও বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের ভূমিকা, অবদান, অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রামাণ্য দলিল তৈরি করা জরুরি।
আলাউদ্দিন আজাদ বলেন, ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ঘটনা বা আন্দোলনের ইতিহাস যেন পরবর্তীকালে বিকৃত না হয়, সেজন্য প্রত্যক্ষদর্শী, অংশগ্রহণকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, দলিলপত্র এবং প্রামাণ্য তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ক্ষেত্রেও একইভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে উদ্দেশ্য করে ধর্মসচিব আরও বলেন, দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং প্রামাণ্য প্রকাশনা তৈরির ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ বাকীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা কাজী মোহাম্মদ সেলিম রেজা, সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদের আমির মুফতি আবু আজহারুল ইসলাম, মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এম. এ. বারী প্রমুখ।
এফপি/অ