বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। বক্তব্যে তিনি পাহাড়ে বনায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। একইসাথে সাধারণ মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে কাঠ কর্তন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বনায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সবাই মিলে সঠিক সমন্বয় করা গেলে বৃহৎ পরিসরে সাফল্য লাভ করা সম্ভব। এছাড়া অনেকেই অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে গাছ লাগালেও পরবর্তীতে তা কাটার ক্ষেত্রে আইনি অনুমতির জটিলতায় পড়েন, যা মানুষকে গাছ লাগাতে নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি বন বিভাগের 'ডি-ফরেস্টেশন' এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা দরকার, যাতে নিম্নাঞ্চলের পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন পরিবারগুলোকে সেখানে পুনর্বাসন করা যায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি সদর জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. একরামুল রাহাত বলেন, পাহাড়ের গভীরে কাঠ পাচারকারীদের প্রতিরোধে সেনাবাহিনী নিরলস কাজ করছে। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় সারা দেশে ২৫ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং প্রাকৃতিক বন সুরক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ান এবং বন সংরক্ষক মো. আবদুল আউয়াল সরকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন এবং মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
এফপি/ফ