রাঙামাটির সাজেকে আটকা পড়া সব পর্যটককে শুক্রবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ৪১১ জন পর্যটককে সরিয়ে আনা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পর্যটকদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু করে বাঘাইহাট সেনা জোন।
সাজেক থেকে বাঘাইহাট পর্যন্ত তিনটি স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাড়ে পাঁচ শতাধিক পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েন। সেনাবাহিনীর স্কটের মাধ্যমে পর্যটকদের সাজেক থেকে বাঘাইহাট পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়।
মাচালং, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় পানি ওঠার কারণে পর্যটকদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। সেনাবাহিনী মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও মাহেন্দ্রার মাধ্যমে পর্যটকদের সাজেক থেকে নিয়ে আসে। পথিমধ্যে এসব স্থানে নৌকা ও ভেলার সাহায্যে পানি পার করে আবারও যানবাহনের মাধ্যমে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বাঘাইহাট জোন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ১৫০ জন পর্যটককে সরিয়ে আনা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে বাকি ৪১১ জন পর্যটককে সরিয়ে আনা হয়।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানান, সাজেকে আটকা পড়া মোট ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর স্কটের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ১৫০ জন এবং শুক্রবার বাকি ৪১১ জনকে সরিয়ে আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাঘাইহাট জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পেশাদারিত্ব, মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনসেবার অংশ হিসেবে বাঘাইহাট জোনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি তৈরি হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
এ সময় পর্যটকরা সেনাবাহিনীর সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাঘাইহাট জোনের সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে গিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি ওঠায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, আটকা পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শুধু পানির বিল নেওয়া হয়েছে।
এফপি/র