বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ এর আওতায় সরকার চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ইউএভি সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, প্যাসিভ ডিটেকশন সিস্টেম, মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশ) মিসাইল সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার এবং বিমান চলাচল নজরদারি রাডার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে, আগামী এক দশকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সরকার।
একই সঙ্গে নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর পেট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন এবং বিমান বাহিনীর জন্য চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম সংগ্রহের মাধ্যমে নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রূপরেখা আকারে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়াও একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প নীতি প্রণয়ন, নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল (ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন) প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে 'মেইড ইন বাংলাদেশ' প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুটি পৃথক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এসব তথ্য জানান।
নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।"
তিনি আরও জানান, চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন (ইউএভি), কাউন্টার-ইউএভি সিস্টেম এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সেনাবাহিনী তার গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি এবং পরিস্থিতিগত সচেতনতা (সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস) সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া সেনাবাহিনীর এয়ার অ্যাসাল্ট সক্ষমতা, সৈন্য ও সরঞ্জাম বহনের জন্য বিমান পরিবহন সক্ষমতা এবং নদীপথের পরিবহন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৌশলগত ও কার্যক্ষম গতিশীলতা উন্নত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকালীন অভিযান বজায় রাখতে সেনাবাহিনী যাতে সক্ষম হয়, তা নিশ্চিত করতে আর্টিলারি গোলাবারুদ, এমএলআরএস রকেট, ট্যাংকের গোলাবারুদ, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল এবং অন্যান্য অস্ত্রের কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সরকারপ্রধান আরও জানান, ফিউজ ও প্রাইমার, আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং হেলমেটের মতো সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য দেশীয় উৎপাদন সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশ করা হবে। এর ফলে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা হ্রাসের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ ঘটবে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
নৌবাহিনীর জন্য ফ্রিগেট ও সাবমেরিন সংগ্রহ
বাংলাদেশ নৌবাহিনী সংক্রান্ত লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর পেট্রোল ভেসেল এবং সাবমেরিন সংযোজন।
এছাড়াও সরকার বিভিন্ন চালকবিহীন প্ল্যাটফর্ম চালুর পাশাপাশি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলোর আধুনিকায়ন, দেশীয় জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা সম্প্রসারণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ মহড়া জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
বিমান বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান
বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ফোর্সেস গোল ২০৩০' এর আওতায় সরকার চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ইউএভি সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, প্যাসিভ ডিটেকশন সিস্টেম, মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশ) মিসাইল সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার এবং বিমান চলাচল নজরদারি রাডার সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
তিনি আরও জানান, সরকার প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় 'ফাস্ট ট্র্যাক' প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
'মেইড ইন বাংলাদেশ' প্রতিরক্ষা শিল্প
এনসিপির সদস্য সচিব ও এমপি আখতার হোসনের আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গবেষণা ও উদ্ভাবন জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার। এছাড়া দক্ষ প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এফপি/র