Dhaka, Wednesday | 8 July 2026
         
English Edition
   
Epaper | Wednesday | 8 July 2026 | English
বিনোদন দুনিয়ায় চমক, এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে হচ্ছে সিনেমা
ঢাকাসহ ১৯ জেলার জন্য সতর্কবার্তা, ঝড়ের শঙ্কা
১৬ জেলায় বন্যার আভাস
সরকারি হাসপাতালে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি
শিরোনাম:

করতোয়ায় সেতুর অভাবে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৪ পিএম  (ভিজিটর : ৫৫)
করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতু বদলে দিতে পারে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা।

করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতু বদলে দিতে পারে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দুই পাড়ের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখানে কোনো স্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। 

ফলে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ছোট একটি খেয়া নৌকা বা অস্থায়ী ভেলা। একটি সেতুর অনুপস্থিতি শুধু মানুষের যাতায়াতকেই ব্যাহত করছে না, বরং থমকে দিয়েছে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে।

সরেজমিনে কুলানন্দপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে এই ঘাট দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। 

নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তেমনি অনেক সময় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

কুলানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেশে এত উন্নয়ন হলেও আমাদের এই এলাকায় তার কোনো ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল, তার ওপর নদী পারাপারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। 

অবহেলার কারণে এপারের ছেলেমেয়ের ওপারে বিয়ে পর্যন্ত হতে চায় না। আমরা যেন এখনো এক পিছিয়ে পড়া জনপদে বাস করছি।"

এই অঞ্চলের মূল চালিকাশক্তি কৃষি হলেও সেতুর অভাবে মার খাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। দুই পাড়ের কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি সময়মতো বাজারে নিতে পারেন না। 

অনেক সময় নৌকায় পারাপারের সময় কৃষিপণ্য ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় চাষিরা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে অনেক কৃষক চাষাবাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কুলানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মিঠু মিয়া জানান, প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। বর্ষাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার শিক্ষার পরিবেশ।

একই চিত্র স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও। কুলানন্দপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, "জরুরি প্রয়োজনে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। নদী পার হতেই যদি এত সময় চলে যায়, তবে রোগীর জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।"

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু যাতায়াতই নয়, একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন থমকে আছে। এলাকায় কোনো নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য বা ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠছে না, যার ফলে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় পাড়ি জমাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, কুলানন্দপুর ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সরাসরি ও সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। 

এতে দুই পাড়ের মানুষের সময় ও যাতায়াত খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এক অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এলাকাবাসী অতি দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডি (LGED) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এফপি/সা

 

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝