দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েক বছরে শত শত কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন কারণে আটকে রাখা প্রায় ২৫০টি কনটেইনারের অবস্থান বর্তমানে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুল্ক ফাঁকি বা ঘোষণাপত্রে অসঙ্গতির অভিযোগে কিছু কনটেইনার কাস্টমস বিশেষ নজরদারিতে রাখে। নিয়ম অনুযায়ী এসব চালান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডেলিভারি দেওয়া হয় না। তবে দীর্ঘ সময় পর এসব কনটেইনারের অবস্থান যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, রেকর্ডে থাকলেও বাস্তবে অনেক চালান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তবে দুই পক্ষের তথ্য-উপাত্তে মিল না থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। কাস্টমসের দাবি, কিছু কনটেইনারের অবস্থান স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, তালিকাভুক্ত অনেক কনটেইনার বৈধভাবে খালাস হয়েছে, কিছু বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং কিছু এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি চালানের নম্বর ও নথিতে অসঙ্গতিও রয়েছে বলে দাবি তাদের।
বিষয়টি আলোচনায় আসে নিলামে বিক্রি হওয়া কয়েকটি কনটেইনারের বাস্তব অবস্থান না মেলায়। এরপরই কাস্টমস পুরোনো রেকর্ড যাচাই শুরু করলে আরও অনেক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। কনটেইনারের সঠিক ট্র্যাকিং, নিরাপত্তা জোরদার এবং আধুনিক ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এফপি/অ