দীর্ঘদিনের অবহেলা ও টানা বর্ষণের পর অবশেষে ধসে পড়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার দক্ষিণ লেমশীখালী ইউনিয়নের পিলটকাটা খালের ওপর নির্মিত শাহাজীরপাড়া–কৈয়ারবিল মলমচর সংযোগ সেতু।
সোমবার (৬ জুলাই) সেতুর একাংশ ভেঙে গেলে দক্ষিণ লেমশীখালীর সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে অন্তত পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৫ মে দৈনিক সকালের সময়-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সেতুটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তখন স্থানীয়রা অভিযোগ করেছিলেন, সেতুর বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল, রড বেরিয়ে যাওয়া এবং পলেস্তারা খসে পড়লেও কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। টানা বর্ষণ ও পানির প্রবল স্রোতের কারণে সোমবার সেতুর একাংশ ধসে পড়ে।
ফলে শাহাজীরপাড়া, কৈয়ারবিল, মলমচর, সিদ্দিক হাজিরপাড়া, হারিছ হাজিরপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আযাদ বলেন,
"অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও কালভার্টগুলোর তালিকা কয়েক মাস আগেই উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এরপরও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতি অনুরোধ, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।"
এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মাত্র তিন দশকের মাথায় ধসে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত একটি টেকসই নতুন সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এফপি/সা