আষাঢ়ের টানা ভারী বর্ষণে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই-তিন দিন ধরে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানুষের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের সামনে স্থানীয় ভ্যানচালক আলী আহমাদ ও আব্দুল মজিদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকা আয় হয়েছে। তাদের ভাষায়, সারাদিন বৃষ্টি হলে যাত্রী থাকে না। ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভাড়া মেলে না। এত অল্প আয় দিয়ে সংসার চালানো, সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। দিনমজুর, ভ্যানচালক, ইজিবাইক চালক, নির্মাণশ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে যাত্রী ও ক্রেতা কম থাকায় তাদের আয়-রোজগার নেমে এসেছে তলানিতে। ফলে অনেক পরিবারই পড়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকটে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাশূন্য পরিবেশে লোকসানের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে কাঁচাবাজার, ফুটপাতের দোকান এবং খোলা জায়গায় ব্যবসা করা বিক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। টানা বর্ষণে স্বাভাবিক বেচাকেনা ব্যাহত হওয়ায় তাদের উদ্বেগ বাড়ছে।
বর্ষণের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। অনেক কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও ছোট যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
এছাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে পানি জমে থাকায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
টানা বৃষ্টিতে উদ্বিগ্ন কৃষকরাও। অতিরিক্ত পানিতে মাঠে থাকা আমন ধানের চারা, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের মতে, আরও কয়েক দিন এভাবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রকৃতিতে আষাঢ়ের বৃষ্টি স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দিলেও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে তা নিয়ে এসেছে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ। এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত আবহাওয়ার উন্নতি ঘটুক এবং স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক পাইকগাছার জনজীবন।
এফপি/সা