টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও ধীরে ধীরে তা কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৩টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা ও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার মধ্যবর্তী ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৯৯ সেন্টিমিটার।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টায় একই পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে তিস্তার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকার পানিও নেমে গেছে। ফলে ডিমলা উপজেলায় আপাতত বন্যার শঙ্কা নেই।
বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তার পানি বাড়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছিল। তবে বর্তমানে এসব এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়লেও বর্তমানে পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমার এলাকায় কোনো পরিবার পানিবন্দি নেই।”
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পানি কিছুটা বেড়েছিল। শুক্রবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করে এবং বিকেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই এলাকায় এত কম পানিতে কোনো পরিবার পানিবন্দি হয় না।”
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “শুক্রবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় তা ১৬ সেন্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায়ও একই অবস্থানে রয়েছে। পানি আরও কমতে পারে।”
এফপি/র