রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় টানা ভারী বর্ষণের পরিমাণ কিছুটা কমলেও বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। গতকাল থেকে বৃষ্টিপাত কম থাকলেও প্লাবিত গ্রামগুলোর পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি। ফলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
তবে স্বস্তির খবর হলো, সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আটকে পড়া সব পর্যটককে শুক্রবার সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে সাজেকে আর কোনো পর্যটক আটকা নেই।
রাঙামাটি আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো অবস্থান করছেন হাজারো মানুষ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিবর্ষণের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতিতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৯২ জন মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি নানিয়ারচর উপজেলার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। এছাড়া দুবাইপ্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে বাঘাইছড়িতে ১২৯টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৫১৮ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে নিউ লাল্যঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন ১ হাজার ১০০ জন।
এদিকে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। রাঙামাটি পৌরসভার ৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০৯ জন এবং রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ৪০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এছাড়া কাউখালী উপজেলার আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬০ জন, কাপ্তাই উপজেলার ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯৮ জন, বিলাইছড়ি উপজেলার ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন, বরকল উপজেলার ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১১৮ জন, রাজস্থলী উপজেলার তাইতংপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন, নানিয়ারচর উপজেলার ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসায় ৩৩ জন এবং জুরাছড়ি উপজেলার জামুড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
এফপি/র