বগুড়ার আদমদীঘিতে এক গৃহবধূকে একটি বাসায় তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করার পর আটক রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার দিবাগত রাতে আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার লকু কলোনী এলাকায় এক বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ অবস্থায় ওই নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ নিজেই বাদি হয়ে আদমদীঘি থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতেই মুল আসামীসহ ৪জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সান্তাহার পোস্ট অফিস পাড়ার নুর ইসলাম বাবুর ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ (২১), শেখ আব্দুল বারেকের মেয়ে রুনা বেগম (৪৫), সান্তাহার পুর্ব লকু কলোনীর তহিদুল ইসলামের ছেলে মিঠু হোসেন (২৭) ও একই এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)। গতকাল শনিবার ভিকটিম ওই গৃহবধূকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বগুড়া আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
মামলা সুত্রে জানা যায়, বাদিনী উক্ত গৃহবধূ তার স্বামীসহ আদমদীঘির সান্তাহার পুর্ব লকু কলোনীর জনৈক কবিরের বাসায় ভারাটিয়া হিসাবে বসবাস করে আসছিল। গত ২২ এপ্রিল পাশের বাসার জনৈক আইয়ুব আলীর মেয়ে রহস্যজনক নিখোঁজ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন দিবাগত রাত ১১ টার দিকে আইয়ুব আলী বাদিনী গৃহবধূ ও তার স্বামীকে সান্তাহার রেলগেটে জনৈক ছিদ্দিকের দোকানে ডেকে নিয়ে তার মেয়েকে বের করে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মামলার আসামী মিঠু হোসেন ও হৃদয় হোসেন বাদি গৃহবধূ ও তার স্বামীকে মারধর করতে থাকলে স্বামী সেখান থেকে ভয়ে পালিয়ে যায়।
এসময় মামলার আসামী রুনা বেগম ভিকটিমকে মারধর করে তার বাসায় নিয়ে একটি ঘরে আটক রেখে পাহাড়া দেয়। রাত ২ টার দিকে আটক রাখা ঘরে আসামী সাহেদুল ইসলাম সাহেদ ও আজান আলী নামের দুইজন ওই ঘরে প্রবেশ করে জোড়পুর্বক পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনা ঘটনায় এবং বিষয়টি কাউকে না বলার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে গৃহবধূর স্বামী ও স্বজনরা তার স্ত্রীকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করান।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ভিকটিমের দায়ের করা মামলায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীকে গ্রেপ্তার তৎপরতা চলছে।
এফপি/জেএস