দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা এবং এই কাজে সহযোগিতার অভিযোগে বাড়িওয়ালা দম্পতিসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) উপজেলার রানীগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি বসতবাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—ঘোড়াঘাটের কশিগাড়ী (রানীগঞ্জ বাজার) এলাকার মো. সারোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) এবং তার স্ত্রী মোছা. যমুনা বেগম (৪০), বিরামপুর উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের মো. তোফাজ্জলের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩০), নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারের মৃত আজাহার আলীর মেয়ে মোছা. তসলিমা খাতুন (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রানীগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি বাড়িতে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে বহিরাগত নারী-পুরুষকে অসামাজিক কাজের জন্য রুম ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার রাতে এক নারী ও এক পুরুষ ওই বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে এলাকাবাসী তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এ সময় অসামাজিক কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রীকেও অবরুদ্ধ করে রাখে।
সংবাদ পেয়ে ঘোড়াঘাট থানার এসআই (নিঃ) মো. আহনাফ তাহমিদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আহনাফ তাহমিদ জানান, স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় এবং অপরাধ নিবারণে আসামিদের বিরুদ্ধে সিআরপিসি আইনের ৫৪ ধারা মোতাবেক প্রসিকিউশন দাখিল করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় চারজনকে আটক করেছে। ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যকলাপ চলছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ নির্মূল করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
এফপি/জেএস