অর্থের অভাব দমাতে পারল না রাঙ্গামাটি জেলার দূর্গম বরকল উপজেলার ইশিকা চাকমাকে। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়নে যেখানে এবারের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, সেখানে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বরকল উপজেলায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন বাংলাদেশে কোনো ছাত্র-ছাত্রী যেন ঝরে না পড়ে- এটিই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমানের নির্দেশ। ইশিকা চাকমাসহ একদল পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত গড়লেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেছেন, ইশিকার স্বপ্ন পূরণে যা প্রয়োজন আমরা তা করব। উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান এর অভিপ্রায় নিয়ে আমি তোমাদের মাঝে এসেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলাদেশে কোনো ছাত্র-ছাত্রী যেন ঝরে না পড়ে।
জানা যায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা বরকল। পশ্চাদপদ এ উপজেলার সীমান্ত রয়েছে ভারতের মিজোরামের সাথে।
বরকল উপজেলার জুনো পহড় উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ইশিকা চাকমা। ভূষণছড়া ইউনিয়নের দুর্গম জারুলছড়ি এলাকার বাসিন্দা ইশিকার পরিবার মাত্র ৭ হাজার টাকার অভাবে নিরুপায় হয়ে ইশিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়, টাকার অভাবে সে এবার পরীক্ষায় বসতে পারছে না।
বিষয়টি জানতে পেরে সাথে সাথেই পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ইশিকার পরীক্ষার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইশিকা চাকমাকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে। তারই আলোকে পার্বত্য মন্ত্রী বরকল উপজেলায় গিয়ে উপজেলা সদরে আবাসিক এলাকায় আশ্রিত ইশিকা চাকমাকে নগদ অর্থ তুলে দেন। এর পাশাপাশি বরকল উপজেলার এসএসসি তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রে নৌপথে বোটে করে আসা যাওয়ার জন্য ছাত্র ছাত্রীদের ভাড়া বাবদ নগদ অর্থ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধানদের নিকট তুলে দেন।
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, মন্ত্রী ইশিকাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যদি কোনো ধরনের সমস্যা হয়, আমি সবসময় পাশে থাকবো ।এছাড়াও তিনি বরকল উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে দেন ভবিষ্যতে অর্থের অভাবে পরীক্ষা দিতে না পারার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর যাতে না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে এবং প্রয়োজনে তার সাথে (মন্ত্রী) তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করতে।
এফপি/জেএস