চন্দনাইশ উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন পুরনো নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে, ঠিক তখনই একেবারে অরাজনৈতিক একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—অনেক আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পেছনে ফেলে ঘোড়দৌড়ে এগিয়ে আছেন সমাজসেবক ও শিল্পপতি জাকির হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নেপথ্যে থেকে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমদের পক্ষে বিভিন্নভাবে সমর্থন জুগিয়েছিলেন। যদিও সরাসরি রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা নেই, তবুও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
উপজেলার পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে সম্প্রতি ইফতার সামগ্রী বিতরণসহ অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে ঘরে ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে শোনা গেছে। শুধু সাম্প্রতিক কার্যক্রমই নয়, দীর্ঘদিন ধরেই গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিত তিনি। স্থানীয়দের দাবি, বিপদে-আপদে নিয়মিত সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করে তিনি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। সরেজমিন অনুসন্ধানেও এসব কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার তারা প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ— জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে অনেক নেতা তৃণমূলের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং নিজেদের স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকায় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
একাধিক ব্যক্তি জানান, “নেতারা যদি নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন, তাহলে কর্মীরাও কেন তাদের জন্য কাজ করবে? এখন মানুষ নতুন, সৎ ও বিত্তশালী কাউকে খুঁজছে—যিনি দুর্নীতিমুক্ত থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।” এ প্রেক্ষাপটে জোয়ারা মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা, শহর কুতুব শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ (আন্তর্জাতিক)-এর স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেনকে ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন সাদামনের মানুষ, দানবীর ও সমাজসেবক হিসেবেই পরিচিত। সম্প্রতি তার সঙ্গে আলাপকালে জাকির হোসেন বলেন, “আমি রাজনীতি বুঝি না। অনেক দিন ধরে আমার আয়ের একটি অংশ মানুষের জন্য বরাদ্দ রাখি। কেউ বিপদে পড়লে আমি চেষ্টা করি পাশে দাঁড়াতে। মানুষ আমাকে দোয়া করে—আল্লাহও আমাকে দিচ্ছেন। মানুষ খুশি, আমি খুশি, আল্লাহও খুশি।” নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“আমি চাইলে তো হবে না, জনগণ চাইতে হবে। কারণ জনগণই ভোট দেবে। যদি জনগণ ও আপনাদের দোয়া থাকে এবং আল্লাহ কবুল করেন, তাহলে সময় নিয়ে চিন্তা করে দেখব। আশা আছে, ইনশাআল্লাহ নির্বাচন করব।”
এদিকে জানা গেছে, তার বড় ছেলে মোঃ রেহান চৌধুরী বর্তমানে চীনে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্টাডিজে অধ্যয়নরত।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অরাজনৈতিক একজন সমাজসেবকের প্রতি জনগণের এই আগ্রহ নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়—জনপ্রত্যাশা বাস্তবতায় রূপ নেয় কি না।
এফপি/জেএস