Dhaka, Saturday | 2 May 2026
         
English Edition
   
Epaper | Saturday | 2 May 2026 | English
ড. ইউনূসের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, মার্কিনিদের মন জয়ে শ্রমিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে প্রজ্ঞাপন
৪৮ ঘণ্টার ভেতর পুরো দেশে তাণ্ডব চালাবে কালবৈশাখী
বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা, এপ্রিলেই মব হামলায় নিহত ২১
বিশ্বকাপ না খেলা ‘বড় ভুল’ ছিল বাংলাদেশের
শিরোনাম:

সাগরপথে গ্রিসযাত্রায়

অনাহারে প্রাণ গেল সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের

প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ পিএম  (ভিজিটর : ৪২)

লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার সময় পথ হারিয়ে সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশী সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া তরুণদের স্বজনরা এ তথ্য জানিয়েছে। ওই ১২ তরুণের মধ্যে জেলার দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন ও দোয়ারাবাজারের ১ জন রয়েছে।

এদিকে ১৮ তরুণ অনাহারে মারা যাওয়ার পর তাদের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের এক তরুণ। তার একটি ভিডিও শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই তরুণের নাম জানা যায়নি। ভিডিওতে ওই তরুণকে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া থেকে সাগরপথে তারা ৪৩ জন রওনা হয়েছিলেন। তাদের বড় বোটের কথা বলে ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ওই বোটে পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও ৩৮ বাংলাদেশি ছিল। তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ-সিলেটে। মারা যাওয়া তরুণদের লাশ দুদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে লাশ পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

মারা যাওয়া তরুণরা হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০), জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সালিকুর রহমানের ছেলে সুহানুর রহমান (২২)। সাহান এহিয়া সাগরে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাতিজা মো. মুক্তাদির আহমদ।

এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তায়েব মিয়া (২৪)। তার স্বজনদের ধারণা, তিনিও সাগরে মারা গেছেন। কারণ, অন্যদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন।

জগন্নাথপুর উপজেলার মারা যাওয়া যুবকরা হলেন পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী (২৩), বাউরি গ্রামের মো. সোহানুর রহমান (২৫) এবং জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম (২৬)। এই তালিকায় রয়েছে, দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজুর রহমানের ছেলে অভ্র ফাহিম (২০)। ফাহিম সাগরে মারা গেছে বলে জানিয়েছে এনামুল কবির মুন্না নামের তার এক মামা।

জগন্নাথপুরের নাঈমের ভাই ঝিনুক মিয়া বলেন, তার ভাই নাঈম আহমদকে গেইমঘরে নিয়ে সাগরে নৌকায় তুলেছিল দালালের লোকজন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না কয়েক দিন ধরে। শুনেছে তিনি নাকি সাগরে মারা গেছে।

জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমার ইউনিয়নের দুই তরুণ সাগরে মারা গেছে জানতে পেরেছি। তারা গ্রিসে যেতে দালালকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছিল।

মারা যাওয়া তরুণদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মারা যাওয়ার পর লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর খবর জানার পর তাদের গ্রামের বাড়িতে মাতম চলছে।

দিরাইয়ের তারাপাশা গ্রামের মারা যাওয়া সুহানুর রহমান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া হোসেন বলেন, প্রতি জন ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি রওনা হন। প্রথমে তাদের ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, সৌদি আরব থেকে মিশর, মিশর থেকে লিবিয়া নেওয়া হয় এবং লিবিয়া নেওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন তাদের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল আমার চাচাতো ভাই রুহান জানিয়েছে, এহিয়াসহ দিরাইয়ের চারজন সাগরে মারা গেছে। তাদের বোট সাগরে পথ হারিয়ে ৫-৬ দিন ঘুরেছে, খাবার ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা সাগরের পানি খেয়ে মারা গেছে।

তিনি আরও বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার জসিম উদ্দিন নামের এক দালালের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। জসিম উদ্দিন লিবিয়ায় থাকে, সুনামগঞ্জের তরুণদের সাগরপথে গ্রিসে পাঠান তিনি।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। আমরা নানাভাবে বিষয়টি জেনেছি, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, দিরাইয়ের চার তরুণ লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে মারা গেছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় একটি রাবারের নৌকায় সমুদ্রে ভাসছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। তবে ছয় দিন ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে যায় নৌযানটি। এতে নৌকায় অভুক্ত থাকা ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা গ্রিসের কোস্টগার্ডকে এ তথ্য জানায়। জীবিত উদ্ধার হওয়ার ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ বাংলাদেশি রয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে গ্রিসের কোস্টগার্ড জানায়, ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী, এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। জাহাজটি দক্ষিণ ক্রিটের শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে ছিল। কোস্টগার্ড এএফপিকে জানায়, ২১ বাংলাদেশি, ৪ দক্ষিণ সুদানি এবং একজন চাদের নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা মানব পাচারকারীদের একজনের নির্দেশে মরদেহ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া দুজনকে ক্রিটের হেরাকলিয়নের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বিবৃতির ভিত্তিতে কোস্টগার্ড জানিয়েছে, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। গ্রিস ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রত্যাশী বহু অভিবাসীর প্রবেশদ্বার।

এ ঘটনায় গ্রিস কর্তৃপক্ষ দুই দক্ষিণ সুদানি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের পাচারকারী বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

এফপি/অ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝