২৫ জানুয়ারি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মজয়ন্তী। বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী প্রতিভা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ও আধুনিকতার পথিকৃৎ এই কালজয়ী কবির স্মৃতিতে প্রতিবছর যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ীতে কপোতাক্ষ নদের তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘মধুমেলা’।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এ বছর ঐতিহ্যবাহী সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এবছর মেলার আয়োজন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ তাঁর জন্মস্থান সাগরদাঁড়ীতে একদিনের সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, আলোচনা সভা এবং সীমিত সাংস্কৃতিক আয়োজন।
এদিকে প্রশাসন আরও জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর পূর্ণাঙ্গভাবে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তনের মাধ্যমে সাহিত্যে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রভাবে ইংরেজিতে সাহিত্যচর্চা শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি মাতৃভাষা বাংলায় ফিরে এসে সৃষ্টি করেন অমর সাহিত্যকীর্তি।
প্রতিবছর মধুমেলাকে ঘিরে মধুমঞ্চে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, নাটক, যাত্রাপালা, জারি গানসহ নানান লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি কুটির শিল্প, কৃষি মেলা, গ্রামীণ খাবারের দোকান, সার্কাস ও জাদু প্রদর্শনী মেলাকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।
যদিও এ বছর আয়োজন সীমিত, তবুও সাহিত্যপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের আবেগে ভাটা পড়েনি। তাঁদের প্রত্যাশা—সব বাধা পেরিয়ে আগামী বছরগুলোতে আবারও কপোতাক্ষ তীরে ফিরবে প্রাণের উৎসব, তারুণ্যের জয়গানে মুখরিত হবে ঐতিহ্যবাহী মধুমেলা।
এফপি/অ