পিরোজপুরের নেছারাবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির পক্ষে হিন্দু স্কুল শিক্ষকের প্রকাশ্য ভোট প্রার্থনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই স্কুল শিক্ষকের নাম নারায়ন চন্দ্র ডাকুয়া। তিনি উপজেলার সমেদকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি করছেন। পিরোজপুর-২ (কাউখালি, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ) আসনের জামায়াতের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামীম বিন সাঈদীর সমর্থনে এক উঠান বৈঠকে বসে উপস্থিত মানুষের কাছে ওই শিক্ষক দু'হাত তুলে ভোট প্রার্থনা করেন।
গত ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের রোঙ্গাকাঠি গ্রামে একটি এলাকায় ওই উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রার্থী শামীম সাঈদী নিজে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকের এমনভাবে ভোট প্রার্থনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে পিরোজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র ডাকুয়া গাববাড়ী গ্রামের পাশ্ববর্তী গ্রাম রোঙ্গাকাঠিতে জামায়াতের উঠান বৈঠকে যোগ দেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “অনাথ মা যেমন শিশুকে নিয়ে শিশুর আঙ্গুল ধরে হেটে হেটে আচল পেতে সাহয্যে চায় আমি আমার ভাইজানের (শামীম বিন সাঈদী) এই হাতখান ধরে আমি আপনাদের কাছে সাহয্যে চাই; একটা ভোট চাই।” ওই শিক্ষককে ভিডিওতে এরকম আরো আকুতি মিনতি বলতে শোনা গেছে।
স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন বলেন, শিক্ষকদের কারো পক্ষে এভাবে ভোট চাওয়ার নিয়ম নেই। তিনি আইন অমান্য করে যেভাবে একজন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন এটা ভোটের মাঠে একটি অসনি সংকেত বলে মনে করি। এটা রিটার্নিং কর্মকর্তার দেখা উচিৎ। কারন সবাইকে আইন মেনে চলা উচিৎ।
শিক্ষক হয়ে এভাবে প্রকাশ্য কারো পক্ষে ভোট চাওয়ার বিধান আছে কিনা জানতে চাইলে ওই শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র ডাকুয়া বলেন, “আসলে শিক্ষকদের প্রকাশ্য ভোট চাওয়ার বিধান নেই। তারপরও দেখছি অনেকে ভোট চাইছে; তাই আমিও চেয়েছি। তবে বিষয়টি ইউএনও মহোদয় জানতে পেরে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি আমাকে ডেকে ছিলেন। আমি আর এমন করবোনা বলে দু:খ প্রকাশ করেছি।” এসময় তিনি নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি উপজেলার হিন্দু শাখার সভাপতি বলে দাবি করেন।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা অমিত দত্ত জানান, “কোন শিক্ষক প্রকাশ্য কারো পক্ষে ভোট চাইতে পারবেনা। মাঠে আচারনবিধি ভঙ্গ দেখার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দেখবেন।”
এফপি/এমআই