যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই অভিনন্দনে সিক্ত হন আমিনুল হক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তাতে বার্তাও দিয়েছেন। এই আনুষ্ঠানিক বার্তা আপাতদৃষ্টিতে সুখকর মনে হলেও ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরমহলের অশান্তি লুকাতে পারছে না। বিসিবির বিগত নির্বাচন নিয়ে নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেওয়ায় আসন্ন বিপদের শঙ্কায় চুপসে গেছেন পরিচালকদের বেশির ভাগ। আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে মিডিয়ার মাধ্যমে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করে ৬ অক্টোবর অনিয়মের নির্বাচনের কথা। কারণ তিনি ভালো করেই জানেন, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন থেকেই দেশের ক্রিকেটে বিরোধের সূত্রপাত। আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ মিটিয়ে ক্রিকেটে শান্তি ফেরাতে চান তিনি।
আমিনুল হক জানান, দেশের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে তাঁর সরকার আন্তরিক থাকবে।
মিরপুরে নিজ বাড়িতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা, মাশরাফি বিন মুর্তজার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয়টি আন্তরিকভাবে সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আমিনুল হক বলেন, ‘সাকিব ও মাশরাফির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় একটি সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার তারা। আমরা অত্যন্ত নমনীয়ভাবে দেখব তাদের বিষয়টি। কিন্তু যে মামলাগুলো হয়েছে, সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমরা চাই সে যেন দ্রুত বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারে।’
২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে দেশ ছেড়েছিলেন সাকিব। ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আর দেশে ফেরা হয়নি তাঁর। উল্টো হত্যা মামলায় হুকুমের আসামি করায় দেশে ফেরার সাহস পাচ্ছেন না বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। আমিনুলের কথায় বোঝা গেছে সাকিবের সে স্বপ্ন পূরণে আন্তরিক হবেন তারা। মাশরাফি দেশে থেকেও মবের ভয়ে দেড় বছর ধরে নিজেকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন।
বিসিবি পুনর্গঠন করা হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিসিবি আইসিসি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আইনের ভেতরে থেকে আলোচনার মাধ্যমে যা করণীয় আছে, তা করা হবে। আমি বিগত দিনেও বলেছি ক্রিকেটে অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। এখন যেহেতু একটি দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, তাদের সঙ্গে বসে কি করা যায় সেটা দেখা হবে।’
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলাকে ভালোবাসেন এমন মানুষদের সম্পৃক্ত করে ক্রীড়াঙ্গন এগিয়ে নেবেন। স্থিতিশীল একটি ক্রীড়াঙ্গন উপহার দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর। আমিনুল হক বলেন, ‘বিগত সময়ে আমি অস্থিতিশীল ক্রীড়াঙ্গন দেখেছি। আমরা একটা সুম্পর্কে গড়ে তোলার মাধ্যমে সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন উপহার দিতে চাই। কে বা কারা যদি দুষ্টামি বা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে, সেটা আমরা প্রতিহত করব।’ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলার চর্চা বাধ্যতামূলক করা হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চারটি খেলাকে বাছাই করেছেন তারা। স্কুল পর্যায়ে সেগুলোর চর্চা হবে।
এফপি/অ