শীতের তীব্রতা আর হাড়কাপাঁনো কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে শ্রীমঙ্গল। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই নেমে আসে কনকনে হিমেল হাওয়ার দাপট। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় বাড়ছে শীতের কড়া দাপট। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সকাল ৬টা ও ৯টায় এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রা দেশের মধ্যে অন্যতম কম তাপমাত্রার মধ্যে পড়ছে বলে জানায় স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
অবিরাম কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশ। সকাল বেলা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় সড়ক, শীতের কুণ্ডলী যেন চারদিকে। হাড় কাপাঁনো এ শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে-খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও চা-শ্রমিকরা। কাজ বন্ধ থাকলে চলে না তাদের সংসার, আবার কাজ করতে গেলেও মাথায় আসে শীতের কষ্ট। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই ঠাণ্ডা মাথায় নিয়েই রোজগারের জন্য বের হতে হচ্ছে এসব মানুষের।
উপজেলার চা-বাগানগুলোতেই শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোর থেকেই কুয়াশায় ঢেকে থাকে বাগানের প্রতিটি কোণা। শরীর গরম রাখার মতো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শ্রমজীবী পরিবারগুলোকে। অনেকেই গায়ে পাতলা চাদর জড়িয়ে বা পুরোনো সোয়েটার পরে কাজে যেতে দেখা যায়। শিশু ও বৃদ্ধরা পড়ছেন সবচেয়ে বিপাকে। শীতজনিত রোগবালাইও বাড়ছে বলে জানা গেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
সন্ধ্যা হলেই রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে যায় । স্বাভাবিক জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা। শীত নিবারণে কেউ কেউ জ্বালাচ্ছেন খড়কুটো বা আগুন, আবার অনেকেই আশ্রয় নিচ্ছেন চায়ের দোকানে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আপাতত এ ঠাণ্ডা পরিস্থিতি কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। সূর্যের দেখা না পাওয়া এবং উত্তরের শীতল বাতাসের প্রভাবে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। তীব্র শীতে কাঁপতে থাকা শীত কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটাই এখন সবার বড় প্রত্যাশা।
এদিকে শীত বাড়ার সাথে সাথে বিচিত্র হতে শুরু করেছে এখানকার প্রকৃতির রুপ। চা-বাগানের সারি সারি ছায়াগাছগুলো সকাল-সন্ধ্যা ঢাকা পড়ছে ধুসর কুয়াশার চাদরে। শ্রীমঙ্গিলের প্রসিদ্ধ পাখির অভয়ারন্য বাইক্কা বিলসহ হাওর, বিল, জলাশয় আর চা-বাগান লেকগুলোতে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। প্রকৃতির এই রুপের সুধা পান করতে পর্যটকদের ভিড়ও বাড়তে শুরু করেছে সবুজ ঘন চা বাগানগলোতে।
এফপি/অ