ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১২ বিভাগের ২৪ শিক্ষার্থীর বিভিন্ন মেয়াদে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের পর সিন্ডিকেট সভায় এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব মো. মাছুদুল হক তালুকদার বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির ৭৬তম সভায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পর্যালোচনা করে শাস্তির সুপারিশ করা হয়। পরে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের পাঁচজন করে রয়েছেন। এ ছাড়া লোক প্রশাসন বিভাগের তিনজন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল' এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দুজন করে এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সমাজকল্যাণ, ল' অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ও চারুকলা বিভাগের একজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম, রোল নম্বর, শিক্ষাবর্ষ, বিভাগ এবং পৃথক শাস্তির বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় কারও নির্দিষ্ট বর্ষ বা সেমিস্টারের পরীক্ষা, আবার কারও একাধিক সেমিস্টারের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একাধিক পরীক্ষায় অসদুপায়ের অভিযোগে পৃথক শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারায় এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্র জানায়, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে শাস্তির সুপারিশ করা হয়। পরে সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষায় নকল ও অসদুপায় রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের তল্লাশি এবং পরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে আরও সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এফপি/মিব