পটুয়াখালীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগর ও নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। ট্রলার মেরামত, ধোয়া-মোছা, জাল প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহসহ শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরা পড়বে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
তবে নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি প্রণোদনার চাল প্রকৃত জেলেরা যথাযথভাবে পান না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে প্রতিবেশী দেশের জেলেদের মাছ ধরার তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পটুয়াখালী জেলার নদ-নদী ও সাগরে ৪৮৪টি অভিযান এবং ১২৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৪৮ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৭টি মামলা করা হয়েছে, ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং প্রায় ২০ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তারা আশা করছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা আবার মাছ ধরতে নামলে তাঁদের জালে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়তে পারে। ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
টানা ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন সময় পার করেছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন তাঁরা। সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে ঋণের চাপ কমানোর পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে দিন কাটাতে পারবেন বলে আশা করছেন জেলেরা।
এফপি/মিব