কুষ্টিয়ার মিরপুরে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়, এরপর সমকামী প্রেম। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় চার কিশোরী। পরে ঢাকার হেমায়েতপুরের বাসা ভাড়া নিয়ে দুই জোড়া কিশোরী 'বিয়ে' করে একসঙ্গে বসবাস শুরু করে। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তাদের নিখোঁজের পর মিরপুর থানা পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার এক কিশোরীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সমকামী প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের অপর দুই কিশোরীর মধ্যেও টিকটকের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়।
সম্পর্কের পর চার কিশোরী একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য তারা ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়। গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী সেখানে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের কিশোরীর সঙ্গে অবস্থান শুরু করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হেমায়েতপুরের ওই বাসায় দুই কিশোরী নিজেদের মধ্যে সমকামী বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে থাকার দাবি করে। অপর দুই কিশোরীও নিজেদের সম্পর্কের ভিত্তিতে একই বাসায় একসঙ্গে বসবাস করতে থাকে।
এভাবে কয়েকদিন একসঙ্গে থাকার পর তাদের অবস্থানের তথ্য পায় মিরপুর থানা পুলিশ। পরে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাকিলাদহ ক্যাম্পের আইসি এসআই ইউসুফ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া চার কিশোরীর বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুর থানা থেকে নিখোঁজ তিন কিশোরীকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা ঢাকার আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। একই সময় নারায়ণগঞ্জের এক তরুণীকেও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক গ্রুপ এর মাধ্যমে সমকামী প্রেমে আসক্ত হয়ে একত্রে থাকার জন্যই বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়েছি।
এফপি/অ