ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো আর ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এসব স্থান সংরক্ষণ করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা খ্রীষ্টিয়ান কবরস্থান, ওয়ারী প্রাচীন কবর সমূহের সংরক্ষণ কাযক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমি চেষ্টা করছি, আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরে পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্যটাকে ফিরে আনতে। পুরোনো ঢাকা বলি না, আমি আদি ঢাকা বলি। আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই তো ঢাকা গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, আদি ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলোর উৎপত্তি দীর্ঘদিনের। এসব স্থান সংরক্ষণের দায়িত্ব সবার। ঢাকা শহরে অতীত ও ঐতিহ্যবাহী যেসব স্থান রয়েছে, সেগুলোকে আর ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, একসময় ওয়ারি ছিল ঢাকার সবচেয়ে বনেদি এলাকা। প্রখ্যাত ও মান্যবর ব্যক্তিদের অনেকেই এ এলাকায় বসবাস করতেন। নদী কাছে থাকা, যোগাযোগব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কারণে এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
‘আজকে সে ওয়ারি আগের অবস্থায় নেই। পাশে বলধা গার্ডেন আছে, সেটার অবস্থাও আমরা সবাই জানি। এই এলাকার অবস্থাটাও আমরা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই।’
এ সময় ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশে থাকা সুইপার কলোনির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কলোনিটির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটিকে অকেজো ঘোষণা করা হয়েছে এবং কিছুদিনের মধ্যে সেটি ভেঙে ফেলা হবে। নতুন কোনো পরিকল্পনা করলে ঐতিহাসিক স্থাপনার নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা কোনোভাবেই চাই না এখানে কোনো বিভেদ থাকুক। আমরা সকল ধর্ম-বর্ণ মিলে-মিশে থাকতে চাই। আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি, এই দেশের অধিবাসী। কাজেই এখানে সমান অধিকার আছে। আমার যে অধিকার, আমার বন্ধু রঞ্জনেরও ঠিক একই অধিকার।
ঐতিহাসিক কবরস্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, স্থানটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এ জায়গার রাস্তা, ড্রেনেজ, লাইট ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কাজ করবে।
কবরস্থানটির রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজন হলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও দেব। কিন্তু এটাকে আরও সুন্দর করে আপনারা মেইনটেন করেন।’
আবদুস সালাম বলেন, আজকে টাকা নাই, বিদ্যুৎ নাই, পানি নাই, গ্যাস নাই—অর্থাৎ সবকিছু নাই-এর মধ্যে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। পাঁচ মাস, ছয় মাস বা এক বছরেই সব নাইকে আছে করা যাবে না। এর জন্য সময় লাগবে।
নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে সিটি কর্পোরেশন নির্জীব হয়ে পড়েছিল। জনগণের কাছাকাছি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন তিনি।
আদি ঢাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুরোনো ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্যটাকে মাথায় তুলে ধরতে চাই। পুরোনো ঢাকাটাকে সাজাতে চাই। সরু রাস্তা হোক, কিন্তু ক্লিন রাস্তা হবে। সরু রাস্তা হোক, কিন্তু লাইটটা থাকতে হবে।’
এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাসমান মানুষদেরও নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে আদি ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষায় জনপ্রতিনিধি, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পুরোনো ঢাকার এসব ঐতিহাসিক স্থানের সঙ্গে অনেক মানুষের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই স্থানগুলোকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের ডাকে তিনি সেখানে এসে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
এফপি/অ