প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০২ পিএম (ভিজিটর : ৯)
সংগৃহীত ছবি
দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছয় বন্ধুর মধ্যে সৃষ্টি হওয়া দ্বন্দ্বের জেরে দ্বাদশ শ্রেণিতে এসে পাঁচ বন্ধু মিলে মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজাতে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কের ভূইয়াবাড়ি ব্রিজের নিচে লেকের পানিতে মোটরসাইকেলসহ তার মরদেহ ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২৮ আগস্ট রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্তে নেমে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাহউদ্দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গাজীপুর সদর এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছয় সহপাঠীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে গত ২৮ আগস্ট রাতে পূর্বাচলের ভূইয়াবাড়ি ব্রিজ এলাকায় মেহেদী হাসান দিগন্তকে হত্যা করা হয়। পরে মোটরসাইকেলসহ তার মরদেহ লেকের পানিতে ফেলে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে। সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন ও আব্দুল্লাহ নামে দিগন্তের দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
নিহত মেহেদী হাসান দিগন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। মেহেদী ও অভিযুক্ত পাঁচজন গাজীপুর বোর্ড ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে একই শ্রেণিতে সহপাঠী ছিল।
ওসি এএইচএম সালাহউদ্দিন আরও জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বাচল ৭ নম্বর সেক্টরের আলমপুর এলাকায় ভূইয়া ব্রিজের নিচে মেহেদী হাসান দিগন্তকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ব্রিজের নিচে লেকের পানিতে গাদার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।