রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কাজ শেষ করতে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার চিঠি দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিলের জন্য রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী।
জানা গেছে, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন হেড কোয়ার্টার থেকে উজানচর জিসি ভায়া ফকিরপাড়া সড়কটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৬৮৫ মিটার বা ২.৬৮৫ কিলোমিটার। এইচবিবি সড়ক পুনর্গঠন করে কার্পেটিং কাজের চুক্তিমূল্য ২ কোটি ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৪ টাকা।
কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার মেসার্স জাকাউল্লা অ্যান্ড ট্রেডার্স। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ১৬ মে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাজটির ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
কিন্তু প্রায় দেড় বছর ধরে কাজটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় স্থানে গাইড ওয়াল ও কার্পেটিংয়ের কাজ না হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ বারবার ভেঙে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন ফকির, আফতার শেখ ও খবির সরদারসহ কয়েকজন জানান, সড়কটি নিয়ে তারা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। ঠিকাদারকে বারবার বললেও কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে না। বিটুমিনের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে সড়ক ভেঙে গেলে অনেক অনুরোধের পর কিছু বালু ফেলে মেরামত করা হয়। দ্রুত সড়কটির অবশিষ্ট কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “কাজটি যখন শুরু করেছিলাম, তখন প্রতি ব্যারেল বিটুমিনের দাম ছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৮ হাজার টাকার বেশি হয়েছে। এ কারণে কাজ করছি না। প্রকৌশল অফিস থেকে বারবার চিঠি দিয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখি কী করা যায়।”
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নিল বলেন, “সড়কের কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অন্তত ৮ থেকে ১০ বার চিঠি দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে কাজটির চুক্তি বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পত্র দিয়েছি।”
রাজবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে দু-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থকে এভাবে বারবার অবজ্ঞা করলে চুক্তি বাতিল করে অবশিষ্ট কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।”
এফপি/র