নদ-নদী ও দুর্গম চরাঞ্চল পেরিয়ে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া কুড়িগ্রামে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সেবা আরও সহজলভ্য করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। এ লক্ষ্যেই কুড়িগ্রামে ‘কমিউনিটি পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রাপ্তির সুযোগ শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ এ সভার আয়োজন করে।
সভায় চরাঞ্চলের মানুষের কাছে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া, সেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের একটি বড় অংশ বিভিন্ন কারণে সরকারি ও বেসরকারি সেবা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, দারিদ্র্য এবং সচেতনতার অভাবে নাগরিক সেবা পেতে তাদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব বাধা দূর করে সেবাগুলো মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিতে হবে।
সভায় জানানো হয়, নারী ও শিশু সুরক্ষা, শিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ। এসব প্রকল্পের বড় একটি অংশ চরাঞ্চলকেন্দ্রিক। এর মাধ্যমে চরবাসীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।
আয়োজকেরা জানান, চরাঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়ানো হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে দুর্গম এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. কুদরত-ই খোদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদ, ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়ক আব্দুস সালাম, সুশাসন বিভাগের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক রেজওয়ানুল হক, জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক নাঈম কামরান ও নাজমুল হোসেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষও যেন শহর ও মূল ভূখণ্ডের মানুষের মতো সমান নাগরিক সুবিধা পায়, সেই লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসা উচিত।”
এফপি/র