সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ নেতাকর্মীর ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। একটি কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করেছে।
আহত ছাত্রদল নেতা মনজুরুল আলম বাপ্পীর অভিযোগ, শনিবার রাতে ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসানের একটি কল রেকর্ড তাদের হাতে আসে। ওই কল রেকর্ডে ছাত্রদলের এক নেতা ও বিএনপিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে।
বাপ্পী বলেন, বিষয়টি জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসানের কাছে গেলে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে তিনি কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনিসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একটি কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০-১৫ জন নেতাকর্মী সেখানে গেলে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসান ও তার বাবা লাল্টু মেম্বারের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহত ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ঘোনা ইউনিয়নের একটি বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দুদায়েভ মাসুদ অর্ঘ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের কিছু লোক জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির ওপর হামলা চালিয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান বলেন, স্থানীয় জামায়াতের শেল্টারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহিদ হাসান ডাবলু বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু নেতার নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতা মনজুরুল আলম বাপ্পীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনজুরুল আলম বাপ্পী এবং ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানসহ তিনজন। তবে আহতদের সবার নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানসহ তিনজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত নেতাকর্মীদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে রাতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পৃথকভাবে আহতদের দেখতে যান জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রউফ।
রাতের আঁধারে ছাত্রদল নেতাদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
এফপি/র