Dhaka, Sunday | 9 August 2026
         
English Edition
   
Epaper | Sunday | 9 August 2026 | English
শিরোনাম:

প্রতিরক্ষা চুক্তি

এক দেশে হামলা মানে সবার ওপর হামলা: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম আপডেট: ০৯.০৮.২০২৬ ৮:৩২ পিএম  (ভিজিটর : ৩৪)
মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ছবি: রয়টার্স

মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ছবি: রয়টার্স

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এই জোটের পরিধি বাড়াতে চান এবং মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশ এতে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী।

তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি কৌশলগতভাবে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ (আর্টিকেল ৫) ভিত্তিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির সমান। শনিবারে এমনটি জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে তিনি বলেন, এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

ফিদান আরও বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এই জোটের পরিধি বাড়াতে চান এবং মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশ এতে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী।

আঞ্চলিক শক্তিগুলো শুক্রবার 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষর করেছে। আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর এই মিত্ররা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে আঘাত করেছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এই চুক্তির উদ্দেশ্য। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, নতুন এই জোট ইরান বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। বরং তিন মিত্র দেশের নিরাপত্তার প্রতি সাধারণভাবে পারস্পরিক সমর্থনের অঙ্গীকার হিসেবে এই জোট কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে মিত্র দেশগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তারা কী মাত্রায়, কী ধরনের এবং কোন পদ্ধতিতে সহায়তা চাইবে, তা নির্ধারণ করবে। তবে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো দেশকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক বলেছে, এই চুক্তি অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের জন্যও উন্মুক্ত এবং এটি বিদ্যমান কোনো জোটের বিকল্প হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।

তিনি বলেন, 'ন্যাটো একটি বিশাল সামরিক জোট, যেখানে ৩২টি দেশ রয়েছে। আমরা এখানে তিনটি দেশ নিয়ে শুরু করেছি এবং আমাদের খুবই বিনয়ী কিন্তু বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে হবে।' তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা দুই বছর আট মাস ধরে চলছিল।

তিনি আরও জানান, ন্যাটোর অভ্যন্তরে থাকা ব্যবস্থার মতো মন্ত্রীদের একটি কমিটি এই জোটের অংশ হিসেবে গঠন করা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সাধারণ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে জোটের কার্যক্রম পরিচালনার বিস্তারিত বিষয়গুলো প্রথম কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, 'আমাদের প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য হলো, আমরা যেন তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকি; বরং এই জোটের ছাতার নিচে সব আঞ্চলিক দেশকে একত্রিত করে এর পরিধি বাড়াই।' তিনি আরও বলেন, কিছু কৌশলগত বিষয় সমাধান হয়ে গেলে মিসরও এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর আঞ্চলিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় একটি গোষ্ঠী গঠন করেছে, যার মূল বিষয় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তুরস্ক বলেছে, 'আর-৪' নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীর লক্ষ্য হলো বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা।

ফিদান আরও বলেন, লোহিত সাগরে হুথিদের হামলা থেকে জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় তুরস্কের একটি আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হওয়া উচিত। কারণ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আঙ্কারার স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।


এফপি/র
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝