“আপনাদের কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ বাজেট, ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ও আন্তরিকতা থাকলে কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দ বা সহায়তা ছাড়াই আমরা স্বাস্থ্যসেবার মানের অন্তত ২৫ শতাংশ উন্নতি করতে পারি”-বলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বরিশাল নগরীর হোটেল গ্র্যান্ড পার্কের সাউথ গেট হলে আয়োজিত ‘সমন্বিত EPI, HPV, Open SRP ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি’ সংক্রান্ত বিভাগীয় পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়, বরিশাল কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মশালায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করে ইউনিসেফ। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি এবং গেটস ফাউন্ডেশন এতে সহায়তা করে।
বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে প্রধান অতিথি বলেন, “আপনারাই বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার মূল স্তম্ভ। কেবল বড় বড় হাসপাতাল তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, যদি না আমরা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারি। এজন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সততা, দক্ষতা ও সদিচ্ছার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাতে হবে।”
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের এক ছাতার নিচে এনে 'কম্বাইন্ড কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার' গঠন করা হচ্ছে। তারা প্রতি ২ থেকে ৩ মাস পর পর দেশের প্রতিটি পরিবারে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন। একইসাথে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ ও হাব গঠন, ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড এবং সমন্বিত রেফারেল সিস্টেম চালু করা হবে, যাতে মানুষ হাসপাতালমুখী হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক সেবা পায়।”
স্বাস্থ্য বাজেট প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বিশ্ব ইতিহাসের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জিডিপির ১.১০ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়িয়েছে। তবে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও শোষণ ক্ষমতা (Utilization & Absorption) বৃদ্ধি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রবাথ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। মাঠপর্যায়ে সেবার গতি বাড়াতে অধিদপ্তর সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।” বক্তব্যে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং সভাপতি হিসেবে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিভাগের বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ মাঠপর্যায়ের নানা চিত্র ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
এফপি/ফ