রাতের বেলা চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন সিলেটের এক শিক্ষক। তাঁর বন্ধুরাও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ওই চায়ের দোকানে গিয়ে শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করেন।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক-সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেনের (সোহান) কাছ থেকে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করা হয়। তিনি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন। তখন তাঁর বন্ধু, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ দুজন তাঁর সঙ্গে খাতা কাটছিলেন। এ সময় দোকানে এক বস্তা খাতা ছিল। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা একই দোকানে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন।
চায়ের দোকানদার ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে আমি দোকান গোছাইতেছিলাম। তারা পেপার দেখতেছিল ভেতরে। এ সময় শিক্ষকেরা (শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা) এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা সবাই চলে গেছে। তারপর আমি দোকান লাগিয়ে চলে গেছি।’ তিনি বলেন, ওই পরীক্ষকসহ তাঁর সহপাঠীরা শুক্রবার রাতেও এসেছিলেন দোকানে। তাঁরা নিয়মিত চা পান করতে ও আড্ডা দিতে তাঁর দোকানে আসতেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। তবে পুলিশে সোপর্দ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে ইকবালের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।
ইকবাল হোসেনের বন্ধু আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার থেকে তো খাতা জব্দ করে নাই। আমি এখানকার আসলে কিছুই না। আমি এক্স সাস্টিয়ান। একজন খাতা আনছিল, উনিই শিক্ষক। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। সে আমার বন্ধু ও ব্যাচমেট।’
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা রাতে গিয়ে চায়ের দোকানে খাতা দেখা অবস্থায় ওই পরীক্ষককে ধরি। সেখান থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করা হয়েছে। এখন তিনি আমাদের হেফাজতে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চায়ের দোকানে খাতা দেখার অভিযোগে একজন শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা থানায় এনেছিলেন বলে জানান সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান তাঁরা।
এফপি/ফ