কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বরের ৪ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনে পানিতে ডুবে অন্তত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে দক্ষিণ ধুরংয়ের ওলী পাড়ায় নাবিলা নামে ১৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের নথিতে পাঁচটি ঘটনাকেই পানিতে ডুবে মৃত অবস্থায় আনার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী,
৪ সেপ্টেম্বর মুরালিয়া, বড়ঘোপ এলাকার নেজাম উদ্দীনের ৩ বছর বয়সী মেয়ে তাকওয়া পানিতে ডুবে মারা যায়।
১১ সেপ্টেম্বর আলী আকবর ডেইলের ঘাটকুলপাড়ার মাহামুদুল করিমের ৪ বছর বয়সী শিশু মিশুর মৃত্যু হয়।
১২ সেপ্টেম্বর লেমশীখালীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিব কাজীর পাড়ায় মো. রুবেলের ৫ বছর বয়সী ছেলে মো. জিয়াদ পানিতে ডুবে মারা যায়।
১৩ সেপ্টেম্বর উত্তর ধুরংয়ের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুইলারপাড়ার মো. খোকনের শিশু আইমান পানিতে ডুবে মারা যায়।
১৫ সেপ্টেম্বর সকালে দক্ষিণ ধুরংয়ের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ওলী পাড়ার জিয়াবুলের ১৯ মাস বয়সী মেয়ে নাবিলাকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের নথিতে নাবিলার উপস্থিতির সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে পানিতে ডুবে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পাঁচ শিশুর এমন মৃত্যু স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নজরদারি, বাড়ির আশপাশের পুকুর-ডোবা ও জলাশয় নিরাপদ রাখা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় কুতুবদিয়ার অনেক বসতবাড়ির আশপাশেই পুকুর, ডোবা, খাল ও অন্যান্য জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়ের অনেকগুলো শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেগুলো ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই।
পরপর শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এফপি/অ