দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম ইউনিয়নের দক্ষিণ কালিন্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিক বেপারী (৫২) রয়েছেন বলে তাঁর পরিবার নিশ্চিত করেছে। এ খবরে রাজিকের বাড়িসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের হাল ধরতে মাত্র আড়াই মাস আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান রাজিক বেপারী। সেখানে একটি দোকানে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাজিকের বোন ফাতেমা বলেন, “আমার ভাইয়ের তিনটি মেয়ে রয়েছে। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই সে বিদেশে গিয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে দোকানে আগুন লাগার খবর পাই। পরে জানতে পারি, আমার ভাই আর বেঁচে নেই। এখন আমার ভাতিজিদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”
নিহতের ভাই সালাম বেপারী বলেন, “শুনেছি আমার ভাইয়ের মরদেহ আগুনে পুড়ে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ, যেন দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে এনে আমাদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। জীবনের শেষবারের মতো আমরা যেন তাকে দেখতে পারি।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইমরান আহম্মেদ, পিপিএম বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভার কালিন্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত সালাম বেপারীর ছেলে রাজিক (৫২) নিহত হয়েছেন।”
তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজিকের সঙ্গে তার ভাই তাজিবও অবস্থান করছেন। তাজিবের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা রাজিকের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর খবর পান। এ ছাড়া, রাজিকের স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান দক্ষিণ কালিন্দীপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কালিন্দীপাড়াজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন রাজিকের পরিবারের সদস্যরা।
এফপি/ফ