চট্টগ্রামের ৮ যুবককে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসা ও রেস্তোরাঁয় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রবাসে নিয়ে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের আজম খান ও তার পুত্র আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বাঁশখালীর সাধনপুরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৮ যুবকের পরিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
প্রতারণার শিকার ও প্রবাস ফেরত ভুক্তভোগীরা হলেন, সাধনপুর ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের মো. রায়হান, মো. ফোরকান, সাধনপুর রাতারকুল দক্ষিণ পাড়ার বখতেয়ার, হুমায়ুন, মো. সিয়াম উদ্দিন, আনোয়ার উপজেলার ইফতাহাদুল ইসলাম, সাতকানিয়ার মো. তারেক ও রাউজান উপজেলার মো. তাসবির।
এদের মধ্যে মো. রায়হানকে তার পরিবার ১২ লাখ টাকা দিয়ে দেশে জীবিত ফেরত পেয়েছেন, ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা দিয়ে মো. বখতিয়ার, ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা দিয়ে মো. তারেক ও ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা দিয়ে হুমায়ুন সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। এরমধ্যে মো. ফোরকান নামে এক যুবক গত ৮ মাস ধরে সৌদি আরবে নিখোঁজ রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রায়হানের বোন আয়েশা ছিদ্দিকা রিনা বলেন, “আমাদের পাশ্ববর্তী ওয়ার্ডের আজম খানের পুত্র আব্দুল জলিল সৌদি আরবে ভালো ভিসা আছে বলে প্রস্তাব দিলে আমরা সহজ সরল মনে বিশ্বাস করে ১টি ভিসা নিই। ভিসা গ্রহণ কালে তিনি জানান রেস্টুরেন্টের ভিসা সৌদি আরবে পৌঁছে ১৫ দিনের মধ্যে একামা, থাকা খাওয়া কোম্পানির বেতন বাবদ বাংলাদেশী ৪৫ হাজার টাকা দেবে। আমরা ভিসা বাবদ তাকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করি। তবে ভিসার পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি একটি ভিসার কপি দেওয়া হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে টাকা, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে আমার ভাইকে আটকে রেখে মারধরসহ করা হয়।”
তিনি আরও জানান, ‘পরে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমার ভাইকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে তাকে গুম করে রেখে নির্যাতন করলে আমরা একে একে ১ম ধাপে দেড় লাখ, ২য় ধাপে ২ লাখ, সর্বশেষ গত ৪ তারিখ ৩য় ধাপে ৬ লাখ টাকা দিলে গত ৮ জুলাই আমার ভাইকে এক কাপড়ে দেশে ফেরত পাঠান ওই জলিল।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল সৌদি আরব থেকে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তায় বলেন, “তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি চেয়ারম্যান (সালাহউদ্দিন কামাল) আঙ্কেলের সাথে কথা বলেন। ওনি সব কিছু জানেন।”
সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন কামাল বলেন, “এ বিষয়ে ৮ জন ভুক্তভোগী ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করেছেন। ইউএনও মহোদয় বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি ইতিমধ্যে দুই পক্ষের সাথে বসেছি, ভুক্তভোগী সকলকে ২ লাখ টাকা করে প্রদান করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল জলিল।”
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, “সৌদি আরবের ভিসা দিয়ে কয়েকজন যুবককে প্রবাসে নিয়ে গিয়ে প্রতারণাসহ নির্যাতনের বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি।”
এফপি/ফ