উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল মেঘনা নদীর কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে নলচিরা ও চেয়ারম্যানঘাটে আটকা পড়েছে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন। দীর্ঘ সময় ধরে ফেরির অপেক্ষায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চালক ও সহকারীরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নদীতে দমকা হাওয়া ও উঁচু ঢেউয়ের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে হাতিয়ায় প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উভয় প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমী নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং সাগর উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
চেয়ারম্যানঘাটে আটকে থাকা ট্রাকচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভোর থেকে ফেরির অপেক্ষায় আছি। কখন ফেরি চালু হবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। গাড়িতে থাকা পণ্য সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
কাভার্ড ভ্যানচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। খাবার ও বিশ্রামেরও সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি চালু করা প্রয়োজন।”
এদিকে ফেরি ও সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলেও কিছু ঘাটে কাঠের নৌকায় যাত্রী পারাপার চলতে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বড় নৌযান বন্ধ রেখে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকায় যাত্রী পারাপারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা বিষয়টিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকল ধরনের নৌ-যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কাঠের নৌকায় যাত্রী পারাপারের বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। আমরা ঘাট এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিআইডব্লিউটিসির নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাটের ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং নৌযান চলাচলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হলেই পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রী ও যানবাহন চালকদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এফপি/অ