মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে সংঘটিত আলোচিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ এবং লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
তিনি জানান, গত ১১ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন-এর নির্মাণাধীন প্রকল্পে ৩ থেকে ৪ জন সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে একটি কনটেইনার কক্ষে আটকে রাখে। পরে বাইরে অপেক্ষমাণ সহযোগীদের সহায়তায় ট্রাকে করে প্রকল্পে থাকা বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী লুট করে পালিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় গজারিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রথমদিকে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে ডাকাতদের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন দুটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। পরে ট্রাকগুলোর মালিকানা, ভাড়ার তথ্য এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রাকের মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শাওন, সজল ও রিয়াজুলের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও শ্রমিকের সহযোগিতায় তারা নির্মাণসাইটে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে এবং ট্রাকযোগে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ থেকে ২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক ছাড়াও চারটি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, একটি পাওয়ার সাপ্লাই, দুটি মোটর, দুটি ডায়নামো, একটি ৩০ হর্সপাওয়ার মোটর, একটি চায়না ডিজেল ইঞ্জিন, একটি মিগ ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক রড কাটার মেশিন, একটি ডিবি বোর্ড, পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক পাম্প, একটি এসি মেশিন, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি পাইপ এবং আনুমানিক সাড়ে পাঁচ টন বিভিন্ন ধরনের লোহার নির্মাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, এ অভিযানের মাধ্যমে শুধু একটি ডাকাতির রহস্যই উদঘাটন হয়নি; বরং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হলে এ ঘটনায় আরও গ্রেফতার হতে পারে বলেও জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
এফপি/র