যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। টানা পাল্টাপাল্টি হামলা, সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার ঘোষণা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
গত মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হলেও তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আর ওই সমঝোতার শর্ত মেনে চলবে না। এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং এ কারণে তেহরানও সমঝোতার বাধ্যবাধকতা থেকে সরে এসেছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর দেশটি চুক্তির আওতায় নেওয়া সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে তেহরান "পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান" শুরু করতে পারে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নজরদারি কেন্দ্র, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার, নৌ স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। তবে ইরানের দাবি, এসব হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেল অবকাঠামো এবং পানি শোধনাগারের মতো বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলেও দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছে তেহরান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সংঘাতের মধ্যেই জর্ডানে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে সেন্টকম নিশ্চিত করেছে। ওই ঘটনায় আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। এর ফলে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৬ জনে পৌঁছেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
এফপি/অ