পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সরকারি কাউখালী মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি ও স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে আগেভাগেই ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের নিয়ম লঙ্ঘন করে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলার এই ঘটনার পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন বা নেপথ্য মতলব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। কলেজটির অধ্যক্ষ আগেভাগে পরীক্ষার্থীদের এই ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়ার জন্য এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই কলেজের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সরেজমিনে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এইচএসসির পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ আগষ্ট থেকে ১৫ আগষ্টের মধ্যে এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সরকারি কাউখালী মহাবিদ্যালয়ের ১৭১ জন তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষার্থীদেরকে বোর্ডের রুটিন ভেঙে আগেভাগে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, বোর্ডের রুটিন দেখে আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম যে ৯ আগষ্ট থেকে আমাদের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা হবে। সেই অনুযায়ী আমরা খাতা তৈরি ও রিভিশন দিচ্ছিলাম। সেখানে ১৬ ও ১৮ জুলাই থেকে আমাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সামনে আমাদের অন্য বিষয়ের পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা দিচ্ছি। তাই এত কম সময়ে আমরা কোনো ভালো প্রস্তুতিই নিতে পারিনি।
বোর্ডের দেওয়া রুটিনকে তোয়াক্কা না করে এভাবে আগেভাগেই পরীক্ষা নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষা বোর্ডের একটা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা থাকে। বোর্ড থেকে যে তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখানে নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি কাউখালী মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. নজরুল ইসলাম বাবু উল্টো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, কেন্দ্র সচিব ও ওই বিষয়ের শিক্ষক চাইলে তার সুবিধামতো সময়ে আগে পরীক্ষা নিতে পারেন। তাই ১৬ ও ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার ও শনিবার) পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এ পরীক্ষা নেয়ার জন্য গত ২৫ জুন তারিখে কলেজের নোটিশ বোর্ডে পরীক্ষা গ্রহনের তারিখ ও সময় জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। তবে বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কেন্দ্র সচিবের এমন একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো আইনগত এখতিয়ার আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মো. আসলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষা কলেজের ইন্টারনাল বিষয়। তাই কলেজের শিক্ষার্থী অনেক বেশি হওয়ায় তারা আগেভাগেই পরীক্ষা নিচ্ছেন। পরীক্ষা আগে নিলেও ব্যবহারিক পরীক্ষার ফলাফল বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তাকে জানিয়েছেন।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত রুটিন অমান্য করে আগেভাগে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এবিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা ও নির্ধারিত রুটিন অমান্য করে আগেভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে অবগত হয়েছি। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এফপি/অ