কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্টের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী বর্তমানে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রোগীর ছেলে মোহাম্মদ আজিজুল হক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন (৬০) গত ২ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত স্ট্রোকজনিত কারণে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএমডব্লিউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে গত ৪ মে তাকে হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগে থেরাপী নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে কর্তব্যরত ফিজিওথেরাপিস্ট কামরুজ্জামান সোহাগ রোগীর বাম পায়ে থেরাপি মেশিন সংযুক্ত করে বিদ্যুৎ চালু করার পর তাকে পর্যবেক্ষণে না রেখে রুম থেকে অন্যত্র চলে যান। এতে মেশিনের অতিরিক্ত তাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে রোগীর পায়ে গুরুতর পুড়াক্ষত ও ফোসকার সৃষ্টি হয়। যদিও রোগী দীর্ঘদিনের উচ্চ মাত্রার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল বলে রিপোর্ট পর্যবেক্ষণে জানা যায়।
রোগীর ছেলে মোহাম্মদ আজিজুল হক অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার পিতার চিৎকার ও হাওমাউ করে শব্দের পর ফিজিওথেরাপিস্ট দ্রুত মেশিন খুলে দেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে মলম ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সমস্যা সেরে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন। পরদিন ৫ মে রোগীকে অতি সুকৌশলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পরিবারের দাবি, বাড়িতে ফেরার পর রোগীর পা মারাত্মকভাবে ফুলে যায় এবং শারীরিক অবস্থার পর্যায়ক্রমে অবনতি ঘটে। পরে ১২ মে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের মেডিল্যাবের চেম্বারে শরণাপন্ন হলে তিনি রোগীর অবস্থা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং মন্তব্য করেন এই রোগীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিল কে? পরবর্তীতে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের জানান, যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া এবং সঠিক তদারকি ও অবহেলার কারণেই রোগীর বর্তমান জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।
এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। একই সঙ্গে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরই বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফপি/অ