ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি ভক্তের নির্ঘুম রাত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচ বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে কিংবা ভোরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রিয় দল কিংবা তারকা ফুটবলারের খেলা দেখতে রাত জাগছেন অনেকেই। তবে ম্যাচের উত্তেজনা শেষ হলেও পরদিন অফিস, ক্লাস কিংবা দৈনন্দিন কাজ তো আর থেমে থাকে না।
তাই বিশ্বকাপের এই উৎসবমুখর সময়ে রাত জেগে খেলা দেখার পরও কীভাবে নিজেকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখা যায়, জেনে নিন কয়েকটি কার্যকর উপায়।
ম্যাচের আগেই কিছুটা ঘুমিয়ে নিন
যদি জানেন রাত ২টা বা ৩টায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে, তাহলে সন্ধ্যা বা রাতের শুরুতে ১ থেকে ২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে রাত জাগার ধকল কিছুটা কমবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
রাত জাগার কারণে শরীরে ক্লান্তি দ্রুত ভর করতে পারে। খেলা দেখার সময় ও পরদিন সকালে পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সূর্যের আলো নিন
ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু সময় খোলা বাতাসে হাঁটুন কিংবা সূর্যের আলোতে থাকুন। এটি শরীরের জৈবিক ঘড়িকে সচল রাখতে সাহায্য করে এবং ঘুমঘুম ভাব কমায়।
নাস্তা বাদ দেবেন না
বিশ্বকাপের উত্তেজনায় অনেকেই সকালে ঘুমিয়ে পড়ে নাস্তা এড়িয়ে যান। তবে ডিম, ফল, দই, ওটস কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার দিনের শক্তির জোগান দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন নয়
ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই একের পর এক চা বা কফি পান করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ক্যাফেইন উপকারী হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ করলে পরে আরও বেশি ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে এবং রাতের ঘুমও ব্যাহত হতে পারে।
সুযোগ পেলে ছোট্ট বিশ্রাম
দুপুরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের একটি ছোট্ট বিশ্রাম বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে পড়লে রাতের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
রাত জাগার পর অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার শরীরকে আরও অবসন্ন করে তুলতে পারে। হালকা ও সুষম খাবার বেছে নেওয়াই ভালো।
টানা রাত জাগা থেকে বিরত থাকুন
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখার চেষ্টা করলে ঘুমের ঘাটতি বাড়তে পারে। তাই নিজের পছন্দের ম্যাচগুলো বেছে দেখে বাকিগুলোর হাইলাইটস দেখে নেওয়াও হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশ্বকাপ চার বছর পরপর আসে, তাই প্রিয় দলের খেলা দেখার আনন্দ উপভোগ করতেই পারেন। তবে খেলার উন্মাদনার পাশাপাশি নিজের ঘুম ও স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ মাঠে ফুটবলারদের সেরা পারফরম্যান্স দেখতে চাইলে দর্শকদেরও থাকতে হবে ফিট ও সতেজ।
এফপি/অ