বাংলাদেশের ফুটবলে শুরু হয়েছে টমাস ডুলি অধ্যায়। সপ্তাহখানেক হলো বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের আগামী ম্যাচকে সামনে রেখে ডুলির তত্ত্বাবধানে দেশেই ক্যাম্প করছিল বাংলাদেশ। সপ্তাহখানেক আগে তিনি বাংলাদেশে এলেও এবারই প্রথম মুখোমুখি হলেন গণমাধ্যমের।
ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিমান ধরার আগে শনিবার (৩০ মে) সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন বাংলাদেশের হাইপ্রোফাইল কোচ টমাস ডুলি আর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।
ইউরোপের দেশ সান মারিনো সফরের উদ্দেশ্যে আগামীকাল রাতে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এই সফরের ঠিক আগমুহূর্তে আজ অনুশীলন শেষে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় দলের নবনিযুক্ত হাই-প্রোফাইল হেড কোচ থমাস ডুলি ও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। সেখানেই নিজের ফুটবল দর্শন, রণকৌশল ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন ডুলি।
খেলোয়াড়ি জীবনে জার্মান বুন্দেসলিগা মাতানো এবং বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ডুলির কোচিং ক্যারিয়ারও প্রায় দুই দশকের। স্বাভাবিকভাবেই তার প্রোফাইল বাংলাদেশে আসা সাম্প্রতিক যেকোনো কোচের চেয়ে বেশ ভারী। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের তিনি কোন কৌশলে খেলাবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ডুলি তার আধুনিক ফুটবল দর্শনের কথা জানান।
ডুলি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মাঠে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে রাজি নন। ডুলি বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের পরিষ্কার বলেছি যে, আমি মাঠে ফুটবল খেলতে পছন্দ করি। আমার রণকৌশলের মূল ভিত্তি হলো- আমরা বলের পেছনে দৌড়াব না, বরং বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরব। মাঠে আমি ‘৪-২-৩-১’ ছকে পজিশনাল ফুটবল খেলাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’
এই পাসিং ও পজিশনাল ফুটবল মাঠে সফল করতে হলে পাস ও রিসিভের মতো ফুটবলের মৌলিক বিষয়গুলো নিখুঁত করার ওপর জোর দিচ্ছেন নতুন এই গুরু। তিনি যোগ করেন, ‘এর জন্য আমাদের পাসিং এবং রিসিভিংয়ের মতো ফুটবলের বেসিক বিষয়গুলো নিখুঁতের কাছাকাছি হতে হবে। মাঠে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে শতভাগ মনোযোগী হতে হবে এবং নিজের দায়িত্বটা ঠিকঠাক বুঝতে হবে।’
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ। সেখানে শিষ্যদের নিজের ফুটবল দর্শন জানান দিয়েছেন ডুলি। সেই উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘যেমন গতকাল আমরা মাঠে হাই-প্রেসিংয়ের অনুশীলন করছিলাম। আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে প্রেসিং করতে হলে দলের সবাইকে একসাথে মুভ করতে হয়। মাঝমাঠের একজন খেলোয়াড়ও যদি অলসতা করে প্রেস না করে, তবে পুরো পরিকল্পনাটাই ভেস্তে যাবে। তাই কৌশলটি ফুটবলারদের মাথায় গেঁথে নিতে হবে।
আধুনিক ফুটবলে উন্নতি করতে হলে এখন প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। প্রতিটি দলেই এখন ভিডিও অ্যানালিস্ট থাকেন। যিনি ক্যামেরার লেন্সে ধারণ করা ফুটবলার ভুলগুলো কাটাছেড়া করে নিখুঁতভাবে ধরিয়ে দেন। ডুলিও সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফুটবলারদের ভুলত্রুটি শুধরে দিচ্ছেন বলে জানান।
বাংলাদেশের মার্কিন কোচ বলেন, ‘আমরা অনুশীলনের ভিডিও করার পর তা স্ক্রিনে দেখিয়ে খেলোয়াড়দের বুঝিয়ে দেব— কোন পরিস্থিতিতে তাদের ঠিক কী করা উচিত ছিল। আমাদের বারবার এই ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে হবে, যাতে পরবর্তীতে একই পরিস্থিতিতে পড়লে তারা পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মূলত এভাবেই আমরা ফুটবলারদের মাঝে একটি পেশাদার চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি এবং এটাই এখন আমাদের মূল ফোকাস।’
এফপি/অ